পাকিস্তানে পরবর্তী সরকার ইমরান খানই গড়তে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বলতে গেলে কোনো সংশয়ই নেই। বুধবার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগেই তিনি নিশ্চিত ছিলেন তিনিই হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনীতিক হিসেবে কতটা সফল তিনি, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন করা যাবে না। কিন্তু, ক্রিকেটের ময়দানে ক্যাপ্টেন ইমরান খানের নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। যে ভাবে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে থেকে প্রায় ছিটকে চলা একটা দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন তা আজও বারবার আলোচনায় ফিরে আসে।

১৯৯২ সালে সিডনি ভারতীয় দলের কাছে হেরে ড্রেসিং রুমে মুষড়ে পড়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। কারণ, ভারতকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পাক ক্রিকেট দল নাস্তানাবুদ করলেও কিছুতেই বিশ্বকাপে হারাতে পারছিল না। ক্রিকেট বিশ্বও সেবার মনে করেছিল বিশ্বকাপে হয়তো এবার পাকিস্তানের কাছে হারতেই হবে ভারতকে। কারণ, বিশ্বকাপে ভারতের সামনে সেবার ইমরান খানের নেতত্বে যে দল খেলেছিল তার মতো ব্যালান্সড দল আগে কখনো ছিল না। তবু হার হয়েছিল পাকিস্তানের। ক্ষিপ্ত ইমরান ড্রেসিংরুমে শুধু বলেছিলেন ‘আমরা আমাদের লক্ষে পৌছনোর জন্য যথেষ্ট কিছু করছি না…’। এরপর সেই বিশ্বকাপে কী হয়েছিল তা আজ ইতিহাস।

বুধবার পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে সেই ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপের স্মৃতিতে পাড়ি দিলেন ইমরান খান। এককালে যিনি দেশের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে অবসর ভেঙে ময়দানে ফিরে জাতীয় ক্রিকেট দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি আজ দেশের শাসনযন্ত্রের প্রধান ক্ষমতাধারী হওয়ার জন্য লড়াই করছেন। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খানের কাছে এ যেন আরো এক বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়ে যাওয়া। তাই আবেগ আর বাধ মানেনি ইমরান খানের। ভোট দিয়ে বেরিয়ে গাড়িতে উঠেই ফুল ভলিউমে চালিয়ে দেন ১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের গান। মুহূর্তের মধ্যে রাজনীতিক ইমরানের মধ্যে থেকে যেন বেরিয়ে এলো ক্রিকেট ক্যাপ্টেন ইমরান।
পাকিস্তানের জনমানসে ইমরান এক কিংবদন্তির নাম। কিন্তু ক্রিকেট ছেড়ে রাজনীতিতে এলেও দুই দশক ধরে সেভাবে বড় কোনও সাফল্য নেই। হাল ছাড়েননি তিনি। হাজারো বিতর্কে নিজের রাজনৈতিক দল নিয়ে অচল থেকে গিয়েছেন। আর ইমরান যখন লক্ষে অবিচল হন তখন কী হয়- তা সকলেরই জানা। সন্দেহ নেই বাঘা ক্রিকেট ক্যাপ্টেন জয়ের গন্ধ পেয়েই আগাম সেলিব্রেশন মেতেছেন। ইমরান জানেন জয়ের ঘোষণাটা তো এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
