ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় অধ্যক্ষ-শিক্ষকসহ তিনজনকে আসামি করে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা হয়েছে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাতে অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, উপধ্যাক্ষ হোসনে আরা এবং প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা।
পল্টন মোডেল থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন জানান, দ-বিধির ৩০৫ ধারায় মামলাটি দায়ের হয়েছে। মামলা নম্বর ১০। তবে এখনো তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন হাইকোর্ট।
স্কুলে নকলের অভিযোগে পিতাকে অপমানের জের ধরে গত সোমবার শান্তিনগরে আত্মহত্যা করে অরিত্রী।
অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারীর অভিযোগ বলেন, তার মেয়ের পরীক্ষা চলছে। গত রবিবার পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষক অরিত্রির কাছে মোবাইল ফোন পান। মোবাইলে নকল করছে এমন অভিযোগে অরিত্রীকে সোমবার তার বাবা-মাকে নিয়ে স্কুলে যেতে বলা হয়। তিনি স্ত্রী ও অরিত্রীকে নিয়ে স্কুলে যান। তার ছোট মেয়েও একই স্কুলে পড়ে। তারা প্রথমে ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। কিন্তু ভাইস প্রিন্সিপাল তাদের ‘অপমান’ করে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। মেয়ের টিসি (স্কুল থেকে দেওয়া ছাড়পত্র) নিয়ে যেতেও বলা হয়। দিলীপ অধিকারী বলেন, এরপর তিনি প্রিন্সিপালের কক্ষে যান। যেখানে স্কুল পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যও ছিলেন। প্রিন্সিপালও ভাইস প্রিন্সিপালের মতো আচরণ করেন।
দিলীপ অধিকারী বলেন, এ সময় অরিত্রী দ্রুত প্রিন্সিপালের কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্ত্রীসহ তিনি বাড়ি গিয়ে দেখেন অরিত্রী তার কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে। অরিত্রিকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তাঁরা। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসকেরা অরিত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
