বড় প্রতিপক্ষকে দেখলেই ইনজুরিতে পড়েন সাইফুদ্দিন!

গতকাল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সে ম্যাচে ইনজুরির কারনে খেলেননি তরুন পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। কিন্তু এবার তাকে ঘিরে সংশয় জেগেছে টিম ম্যানেজমেন্টের। সত্যি সত্যিই চোট আছে নাকি নটিংহামের পাটা উইকেটে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া বলেই ভান করছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন!

এ অলরাউন্ডার সম্পর্কে ফিজিওর ভাষ্য সকালেই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানা গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে বোলিং করার সময়ই নাকি পিঠে ব্যথা পেয়েছিলেন সাইফ উদ্দিন। যদিও ম্যাচে কোনো শুশ্রূষা নেননি তিনি। টন্টন থেকে নটিংহামে এসেই সবাই জেনেছেন যে পিঠে ব্যথা সাইফ উদ্দিনের।

এটা অবশ্য তাঁর পুরনো ব্যথা নয়। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ও একবার আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি পিঠের ব্যথায়। ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেননি সাইফ উদ্দিন। তবে দুদিনের ব্যবধানে ব্যথা চলে যাওয়ায় ফাইনালে খেলেছিলেন তিনি। মাঝে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচ মিলিয়ে দারুণ বোলিং করেছিলেন সাইফ উদ্দিন, বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি যাঁকে মনে করেন অন্তত ১০-১২ বছর দলকে সার্ভিস দেওয়ার উপযুক্ত।

বিশ্বকাপেও সে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন সাইফ উদ্দিন। কিন্তু আবার ইনজুরি এবং আবারও তাঁর পিঠের ব্যথা নিয়ে গুঞ্জন দলে। ডাবলিনে তো একজন উত্তপ্ত হয়ে চেঁচাচ্ছিলেন, ‘কিসের ব্যথা? ও সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এটা করে!’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওটায় গড়বড় হলে ফাইনালে ওঠার অঙ্ক কঠিন হতে পারত। সে রকম কিছু হয়নি। এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে ফাইনালেও ভালো বোলিং করেছেন।

কিন্তু সাইফ উদ্দিনের পিঠের ব্যথা নিয়ে সংশয় আর যায়নি। উল্টো কার্ডিফে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের একটি ঘটনা তিক্ততা ছড়িয়েছে দলের লিডারশিপ গ্রুপের মাঝে। সে ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজা একরকম বিশ্রামে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা তখন যাঁকে পাচ্ছে, তাঁকেই মারছে। তো, ওরকম একটা অগ্নিগর্ভ অবস্থায় মাঠের নেতা সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে ডাকেন সাইফ উদ্দিনকে। কিন্তু তিনি নাকি বল মাটিতে আছড়ে ফেলে অ্যাটিচ্যুড দেখিয়েছিলেন, যা একেবারেই মনঃপূত হয়নি মুশফিকুর রহিমের। সাইফ উদ্দিনের ভাগ্য ভালো দৃশ্যটি চোখে পড়েনি সাকিবের। পরবর্তীতে অবশ্য শুনেছেন সতীর্থদের কাছে। শুনেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি সাকিব।

দেখাননি কারণ, সাকিবের ক্রিকেট দর্শনে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম প্রাপ্তবয়স্কদের। এখানে হাতে-কলমে কাউকে শেখানোর নেই। কেউ শিখতে এলে স্বাগতম। আর যদি কেউ না আসে, সেটা ওর ব্যাপার। দিন শেষে ফল তো সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ই ভোগ করবে, সাকিব কিংবা অন্য কেউ নন।

মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের পিঠের ব্যথা একদিন নিশ্চিতভাবেই সারবে, তিনি মাঠেও ফিরবেন। তবে দলের ভেতর তাঁর সম্পর্কে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা কি দূর হবে সহসা? কঠিন প্রতিপক্ষ দেখলেই পিঠের ব্যথা বলে ‘ডাক’ করেন সাইফ উদ্দিন!

অথচ সেকালে প্রায় অসম্ভব লড়াইয়ে নেমে কত মার খেয়েছেন খালেদ মাহমুদ। হাঁটুতে সাতটা অস্ত্রোপচার করিয়েও খেলে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, প্রতিপক্ষ কিংবা কন্ডিশন বিবেচনা করেন না। সাকিব, তামিম ইকবাল কিংবা মুশফিকুর রহিমরা ছোটখাটো ইনজুরি নিয়েও খেলে ফেলেন। সেখানে কিনা সাইফ উদ্দিন…, যাঁকে আগামীর অবশ্যম্ভাবী তারকা মনে করছেন মাশরাফি!