রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আগেই নাম সরিয়ে নেয় কলম্বিয়া। এককভাবে আয়োজক হওয়ার জোর সম্ভাবনা উঁকি দেয় আর্জেন্টিনার। কিন্তু তাতেও বিপত্তি দেখা দেয়। দেশটিতে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বাদ পড়ে তারাও। ফলে শঙ্কায় পড়ে যায় কোপা আমেরিকার ভবিষ্যত। অবশেষে অনিশ্চয়তা কেটেছে। শতবর্ষী এই প্রতিযোগিতার এবারের আসরটি বসবে ব্রাজিলে। সোমবার দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ভেন্যু পরিবর্তন হলেও সূচিতে কোনোরূপ পরিবর্তন আসছে না। কনমেবল জানায়, ‘২০২১ কোপা আমেরিকার আসর ব্রাজিলে বসতে চলেছে। টুর্নামেন্টটির সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে কোন কোন শহরে ম্যাচ আয়োজন করা হবে, সে ব্যাপারে খুব শীঘ্রই ঘোষণা দেয়া হবে।’
করোনা ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান প্রকোপে আর্জেন্টিনা সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোপা আমেরিকা আয়োজনের মতো অবস্থায় নেই দেশটি। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন আয়োজক দেশের ঘোষণা দিল কনমেবল। যদিও ব্রাজিলও করোনা ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে চারলাখেরও বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে। গোটা বিশে^ করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর তালিকায় ব্রাজিল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
মূলত আর্থিক কারণেই টুর্নামেন্ট বাতিল বা স্থগিত করে দিতে অনীহা কনমেবলের। ২০১৯ সালে ব্রাজিলে হওয়া টুর্নামেন্ট থেকে আয় ছিল ১১.৮ কোটি ডলার, যা ছিল সংস্থাটির আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস। এবারের আসরে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দলের পাওয়ার কথা অনন্ত ৪০ লাখ ডলার করে, চ্যাম্পিয়ন দলের বাড়তি পুরস্কার ১ কোটি ডলার।
মূলত কোপা আমেরিকার আসরটি গত বছর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ^ব্যাপী করোনার প্রকোপে এক বছর পিছিয়ে দেয়া হয়। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৩ই জুন থেকে ১০ই জুলাই পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে হওয়ার কথা ছিল টুর্নামেন্টটি। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত ২০ শে মে আয়োজক হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে কলম্বিয়া। এবার আর্জেন্টিনাও সে পথেই হাটল।
