বিমানবাহিনী থেকে বিপিএল মাতাচ্ছেন এই পেসার

মিরপুর টেস্টে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসকে বোল্ড করে স্যালুটে উদযাপন করেছিলেন সাকিব আল হাসান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল স্যালুটের সেই ছবি। শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের বিপক্ষে একই মাঠে উইকেট নেয়ার পর স্যালুটে উদযাপন করেছিলেন সিলেট সিক্সার্সের তরুণ ইবাদত হোসেন চৌধুরী। এরপর থেকে ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনা কে এই ইবাদত, কেন এমন উদযাপন?

সিলেটের, মৌলভীবাজার থেকে উঠে আসা এই পেসারের জীবনবৃত্তান্ত বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। চাকরি করেন বিমানবাহিনীতে। সাধারণত প্রতিরক্ষাবাহিনী থেকে ক্রিকেটার উঠে আসার দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে। নিঃসন্দেহে ইবাদত সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

বিমানবাহিনীতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন ভলিবল খেলোয়াড় হিসেবে। কিন্তু মন তার সব সময়ই পড়ে থাকত ক্রিকেটে। তাই শত ব্যস্তাতার মাঝেও নিজেকে আলোকিত করছেন ক্রিকেটের আঙ্গিনায়। কিভাবে বিপিএলে সুযোগ পেলেন এই পাইলট? আর উত্তর জানতে যেতে হবে দুই বছর পেছনে।

২০১৬ সালে রবি ফাস্ট বোলার অন্বেষণ কর্মসূচিতে তিনি হয়েছেন সবচেয়ে দ্রুততম বোলার। সবচেয়ে দ্রুত গতির বলের জন্য ‘স্পিড স্টার’ পুরস্কারও পেয়েছেন ইবাদত।সেখান থেকে আসে নজরে। খেলতে থাকেন দেশের বিভিন্ন ঘরোয়া লিগে।

এর পর ২০১৮ সালের শেষের দিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে আলো ছড়ান ইবাদত হোসেন। ওই ম্যাচে বিকেএসপিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন ইবাদত। ৩ ওভার করেন মেডেন। চার বলের ব্যবধানে নেন শেষ ৩ উইকেট। নেয়ার পর মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থদের স্যালুট করেছেন বিসিবি একাদশের পেসার ইবাদত হোসেন।

তারই সুবাধে নিজেদের বিভাগ সিলেটের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মাতাতে মাঠে নামেন ইবাদত। যদিও তারকা খচিত দলটিতে নিয়মিত একাদশে থাকার সুযোগ মেলেনি।তবে যখনি সুযোগ পেয়েছেন, নিজেকে সফে দিয়েছেন শতবাগ।

সিলেট তাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশে না খেলিয়ে যে ভুল করেছে সিলেট সেটা আবারও প্রমাণ করেছেন এবাদত হোসেন। গতকাল চিটাগংয়ের বিপক্ষে ২৯ রানে জয়ের ম্যাচে ৪ ওভার বল করে ১৭ রানে ৪ উইকেট পেয়েছেন তিনি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ম্যাচ সেরা হয়েছেন এই পেসার। সংবাদ সম্মেলনে এই পেসার দারুণ বোলিংয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন কোচ ওয়াকার ইউনুসকে। প্রথম দিকে একাদশে জায়গা না পেয়েও নিজেকে তৈরি রেখেছিলেন বলে জানালেন তিনি।

‘আসলে প্রথম থেকে সাত-আটটা ম্যাচ অপেক্ষা করছিলাম নিজেকে তৈরি করছিলাম ম্যাচের জন্য, তো ম্যাচ খেলা হয়নাই। যখনি সুযোগ পাইছি ভালো করার চেষ্টা করছি। আমাদের কোচিং স্টাফ যারা আছেন, এবং ওয়াকার স্যার (পাকিস্তানের ওয়াকার উইনুস) অনেক হেল্প করেছেন। আমি উনাকে ডেডিকেট করতে চাই, এবং আমার আম্মা প্রথমে আসছিল দুই-তিনটা ম্যাচ দেখতে। তখন এতো ভালো করতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ আজকে অনেক ভালো হয়েছে।’

স্যালুট দেয়ার অভ্যাস এমনিতেই ছিল। জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনুপ্রেরণাতেই নাকি এমনটা করেছেন মাঠেও।স্যালুট দেয়ার অভ্যাস এমনিতেই ছিল। জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অনুপ্রেরণাতেই নাকি এমনটা করেছেন মাঠেও। এমনটা অনেক আগেই জানিয়েছিলেন ইবাদত।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই প্রস্তুতি ম্যাচ শেষেই এমন উদযাপনের গল্প শুনিয়েছিলেন।‘গত বিসিএল খেলার সময় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাই আমার উদযাপনে একটু নতুন সংযোজন এনেছিলেন। তিনি বলেছিলেম, তুই যেহেতু বিমানবাহিনীতে জব করিস, উইকেট পেলে এরকম স্যালুট দিবি। এজন্যই এমনভাবে উদযাপন করা।’

দেশের বোলারদের মধ্যে ইবাদতের প্রিয় মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফিকে তার ভালো লাগে মূলত অসাধারণ অধিনায়কত্ব ও উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বের কারণে। ইবাদত আসলে হতে চান ব্রেট লির মতো গতিময় বোলার।

————————-
মজার মজার ভিডিও দেখুন টাচ করে