বিপিএল মাতানো ‘এক চাটাগাইয়া ছেলে’ ইয়াসির আলীর গল্প

চিটাগংয়ের ছেলে ইয়াসির আলী চৌধুরী এবার বিপিএল এ যেমন আলো ছড়াচ্ছেন ব্যাটিংয়ে ঠিক তেমনি জাতীয় দলে আসার দরজাটাও সামনেই। হবেনা কেনো?? তার সাথের লিটন মোস্তাফিজরা জাতীয় দলে মাঠ কাপাচ্ছেন তিনিও আসবেন।

চট্টগ্রামের ছেলের ক্রিকেটে আসার পেছনে ছিলেন তার বাবা। ইয়াসিরের বাবা ছিলেন আকরাম খানের ভক্ত। সেই ১৯৯৯ সালে যখন আকরামের নেতৃত্বে যখন বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জিতলো তখন ইয়াসিরের বয়স কেবল ৩ বছর। তখন থেকেই বাবার মনে সপ্ন নিজের ছেলেকে একদিন ক্রিকেটার বানাবে।

ইয়াসিরের বাবার অনুপ্রেরণা যেমন ছিলেন আকরাম খান তেমনি ইয়াসিরের অপুপ্রেরণা তামিম ইকবাল খান। শুধু অনুপ্রেরণাই নয় ইয়াসিরের প্রিয় খেলোয়াড়টাও তামিম ইকবাল খানই।

এক সাক্ষাৎকারে ইয়াসির বলেছিল কোনো এক ম্যাচে তিনি ০ রানে আউট হওয়ার পর তিনদিন তার বাবা তার সাথে কথাই বলেননি। এতেই বুঝা যায় বাবার মনে কতটা সপ্ন ছেলেকে বড় মাপের ক্রিকেটার হিসেবে দেখতে।

১৯৯৬ সালের ৬ র্মাচ চট্রগ্রামে জন্মগ্রহন করেন ইয়াসির। লিটন মুস্তাফিজদের সাথে ২০১৪ যুব বিশ্বকাপের একজন ছিলেন ইয়াসির।

বয়সটা মাত্র ২২ দুই মাস পর ২৩ এ পা দেয়া ইয়াসির প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৫ গড়ে রান তুলে যাচ্ছেন ৩৬ ম্যাচে তার রান ২৩৩১। লিস্ট এ ক্রিকেটেও ১ হাজারের ঘরেই চলে গিয়েছে ইয়াসির। ৪৬ ম্যাচে ১১০১ রান।

২০১৮ সালে ইর্মাজিং এশিয়া কাপের চার ম্যাচে ইয়াসিরের পারফর্মেন্স:-

৪ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ২৭ বলে ২o রান, ৫ নম্বরে নেমে ৪৩ বলে ৪৫ রান। ৬ নম্বরে নেমে ৪৬ বলে ৫৬ রান। ৬ নম্বরে ৭২ বলে ৬৬ রান করেন।

এবারের বিপিএল এ ইয়াসির প্রথম ম্যাচে তিনে নেমে ৩৪ বলে ৪১ রান, ৮ বলে ৪ রান,৩৬ বলে ৫৪ রান ১৭ বলে ১৫ রান। ৭ বলে ৩ রান আজ ওপেনিংয়ে ৪৮ বলে ৭৮ রান।

অর্থ্যাৎ ২,৩,৪,৫,৬ নম্বর পজিশনে ব্যাট করার
সামর্থ্য তার আছে।

আগের বিপিএল এ খুলনায় ছিল ইয়াসির কিন্তু সেরকম ম্যাচ খেলাই হয়নি। তবে এবারের বিপিএলটাই একজন ইয়াসিরকে চিনাতে সক্ষম।

কি নেই তার ব্যাটিংয়ে??? এবার বিপিএল এ নিজের ৩য় ম্যাচেই করেছে ৫০ রান। গতকাল খেললো ৭৮ রানের ইনিংস। খুব করে চেয়েছিলাম ১০০ টা করুক। কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। কিন্তু হাসলো চট্রলাবাসী।

হাসবেনা কেনো?? তাদের চট্রলার ছেলে চট্রলার দলে খেলে চট্টগ্রামের মাটিতেই তো ৭৮ রানের ইনিংসটা খেললো। অথচ প্রথমদিকে আশরাফুলের জায়গায় খেলতে আসার সময় একটু কথা শুনতে হয়েছিল। ৫ বছর পর সুযোগ পাওয়া আশরাফুল খেললো মাত্র ২ ম্যাচ তারপর আশরাফুলের জায়গায় ইয়াসির। এটা কেমন চয়েজ??? এবার দেখলেন তো কেমন চয়েজ???

ইয়াসির আলী চৌধুরী আর কয়েকটা ম্যাচে এমন ধারাবাহিক থাকলেই হবেন এবার বিপিএল এর দেশীয়দের মধ্যে সেরা আবিষ্কার। নিজের সেরাটা গত ম্যাচগুলোতেই দেখিয়েছে। আজ নিজের শহরেও দেখালো।

ইয়াসির ভাই আপনাকে বলি এই ফর্মটা ধরে রাখুন টি-টোয়েন্টিতে এমন এক ইয়াসিরকেই চায় বাংলাদেশ। আমি আবারো বলি ওনার বয়সটা মাএ ২২। ক্যারিয়ার মাত্র শুরু আরো যেতে হবে অনেকদূর।

সামনে চট্টগ্রামে আরো ম্যাচ আছে ইয়াসির ভাই। আজকের মতো আরো ঝড় তুলবেন আশা করি৷ তুলবেন না কেনো চট্টগ্রামের ছেলে চট্টগ্রামের লোকেদের সামনে ঝড় তুলবেনা তা কি হয় নাকি।

সামনের ম্যাচগুলোর জন্য রইল শুভ কামনা। লেখাটি সংগ্রহিত (আশিকুর রহমান সোহেল)