জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে নকল ন্যান্সির সংখ্যা। আর তাতে বিরক্ত হয়ে শেষ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে ফেসবুক ছাড়ার ঘোষণা দিলেন আসল ন্যান্সি। সেখানে লেখা ছিল, ‘বিদায় ফেসবুক’। মানে আপাতত তাকে আর ফেসবুকে পাওয়া যাবে না। পরিস্থিতি কখনো ইতিবাচক হলে আবার ফেসবুকে আসার চিন্তা ভাবনা করবেন বলে জানান ন্যান্সি।
বিষয়টি সম্পর্কে দেশের জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফেসবুকে তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অসংখ্য ফেইক আইডি খোলা হয়েছে। যেগুলোর জন্য প্রায় তাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অনেকেই সেই ফেইক আইডির সঙ্গে চ্যাট করেন। দেখা হলে ন্যান্সিকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমাকে চিনতে পারছেন না আপা, আপনার সঙ্গে আমি ফেসবুকে চ্যাট করি।’
ন্যান্সি বলেন, ‘ফেসবুক আমরা ব্যবহার করি এক-অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ ইদানিং এটির অপব্যবহার করছেন। ফেসবুকে অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আমার একটি পেজও ছিল। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে লাইভে আসতাম। যাতে সবাই বুঝতে পারেন, এটা আসল। কিন্তু পরে সেই ভিডিওগুলো অন্যরা এডিট করে ইউটিউবে নেতিবাচকভাবে আপলোড করেছে।’

শিল্পী বলেন, ‘বিষয়গুলো মানতে পারছি না। তাই আপাতত ফেসবুক থেকে বিদায়। তার চেয়ে বরং গান ও পরিবারের পেছনে সময় ব্যয় করাই উত্তম। কারণ আমার কিছু পারিবারিক ছবি অনেক সময় ফেইক আইডিগুলো থেকে প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। ঘরোয়া ড্রেসের সে ছবিগুলো আমি শুধু ফেন্ডস মুড করে আপলোড করেছিলাম। কিন্তু সেগুলোও প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে। এসব থেকে বাঁচতেই ফেসবুককে বিদায় জানালাম।’
২০০৬ সালে রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির ‘হৃদয়ের কথা’ ছবির একটি গানে কণ্ঠ দেওয়ার মধ্যদিয়ে সংগীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু হয় নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির। ২০০৮ সালে একই জুটির ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ ছবির ‘পৃথিবীর যত সুখ যত ভালোবাসা’ গানটির মাধ্যমে তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। এরপর বহু ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। ২০০৯ সালে সংগীতার ব্যানারে প্রকাশ হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘ভালোবাসা অধরা’।
পাশাপাশি দ্বৈত ও একাধিক মিশ্র অ্যালবামেও গান গেয়েছেন ন্যান্সি। এক যুগের সংগীত জীবনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার হাতে উঠেছে তার। এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গণেও চলাফেরা আছে এই শিল্পীর। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ন্যান্সি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। এখনো তিনি সেই পদে বহাল।
