রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের হতাশা বাড়িয়েই চলেছে বার্সেলোনা। মাঠের লড়াইয়ে নয়। মাঠের বাইরের বিষয়, নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের লড়াইয়ে। একের পর এক খেলোয়াড় কিনে দলের শক্তি বৃদ্ধির কাজটা করেই যাচ্ছে বার্সা। আর মাঠের বাইরের অঘোষিত এই লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ চিরশত্রুদের ঠিক উল্টো পিঠে চলছে। নতুন খেলোয়াড় কেনা দূরের কথা, রিয়াল নিজেদের ঘরই ঠিক রাখতে পারছে না।
এরই মধ্যে রিয়াল ছেড়ে চলে গেছেন দলের প্রানভোমড়া ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। তার বিকল্প হিসেবে কাউকে কেনা তো অনেক দূরের বিষয়, কারো সঙ্গে কথাও পাকা করতে পারেনি। উল্টো রিয়ালের পছন্দের তালিকা রদবদল হচ্ছে। আজ একজনকে পছন্দ করছে তো কালকেই তাকে বাদ দিয়ে পছন্দের তালিকায় ঢুকিয়ে নিচ্ছে আরেকজনের নাম! মানে কাকে রেখে কাকে কিনবে, সেটাই ঠিক করে উঠতে পারছে না। রিয়ালের পরিকল্পনায় যেন কেমন একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা।
অথচ এবারের দলবদলের মৌসুমটি রিয়াল মাদ্রিদের হবে বলেই মনে হচ্ছিল। নামীদামী তারকাদের নাম নিজেদের ক্রয় তালিকায় লিখে নিয়ে রিয়াল কর্তারাই আভাস দিয়েছিলেন, এবারের দলবদলে বড় ধরনের চমকই উপহার দেবেন। কদিন আগে রিয়ালের সভাপতি স্বয়ং ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তো প্রকাশ্যেই ঘোষণা দেন, বড় সড় চমকই দেখাতে যাচ্ছেন তারা।

নামাদামী তারকা কেনাটা রিয়ালের জন্য অপরিহার্যও। কারণ, চিরশত্রু বার্সেলোনা গত মৌসুমেই দলবদলের বাজারে দাও মেরেছে। বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে ঘরে তুলে উসমানে ডেম্বেলে, ফিলিপে কুতিনহোসহ পাঁচ পাঁচজন খেলোয়াড়কে। বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদ কিনেনি একজনও। উল্টো, নিজেদের ঘর ছাড়া করে হামেশ রদ্রিগেজ, আলভারো মোরাতা, পেপেদের।
শুধু গত মৌসুমেই নয়, ২০১৩ সালে গ্যারেথ বেলকে কেনার পর থেকে আর বড় কোনো খেলোয়াড় কিনেনি রিয়াল। ফলে এমনিতেই নতুন খেলোয়াড় কেনাটা তাদের জন্য জরুরী বিষয় হয়ে উঠেছে। তার উপর বার্সেলোনার একের পর এক খেলোয়াড় ক্রয়ের ঘটনা তাদের জন্য নতুন খেলোয়াড় ক্রয়ের বিষয়টিকে অতি জরুরী বানিয়ে ফেলে। এর মধ্যে মৌসুমের শুরুতেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ায় রিয়ালের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। তারকা খেলোয়াড় কেনাটা তাদের জন্য অতি অপরিহার্য।
কিন্তু রিয়াল কোনো কূল কিনারাই করতে পারছে না। অন্য দিকে যাদের কেনার দরকার নেই, সেই বার্সেলোনা গোপনে গোপনে খেলোয়াড় কিনেই চলেছে। এই মৌসুমেও এরই মধ্যে দলে ভিড়িয়েছে তিনজনকে। গত মার্চে চুক্তি করা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার আর্থার কদিন আগে যোগ দিয়েছেন। গত মাসে বার্সেলোনা আবার কিনেছে ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ত লেংলেতকে। এর পর আবার দিল ‘ম্যালকম’ চমক। ফরাসি ক্লাব বোর্দো থেকে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারকে বার্সা নিয়ে এল ছিনতাই করে।
আর রিয়াল? পছন্দের খেলোয়াড়েরা কেবল হাত পিছলে বেরিয়েই যাচ্ছে! রিয়ালের পছন্দের তালিকার সবার উপরে ছিলেন নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপে। কিন্তু পিএসজির এই দুই সতীর্থই রিয়ালের হাত ফসকে বেরিয়ে গেছেন। নেইমার-এমবাপে, দুজনেই প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন তারা পিএসজিতেই থাকছেন।
এই দুজনের পাশাপাশি রিয়াল হাত বাড়িয়েছে চেলসির দুই বেলজিয়ান খেলোয়াড় এডেন হ্যাজার্ড ও থিবো কুর্তোইসের দিকে। হ্যাজার্ডের বিষয়টি এখনো পরিস্কার নয়। তবে ভাবসাব দেখে মনে হচ্ছে, গোলরক্ষক কুর্তোইস বুঝি নেইমার-এমবাপের মতোই রিয়ালের হাত গলে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
কেইলর নাভাসের বিকল্প হিসেবে চেলসির এই বেলজিয়ান গোলরক্ষকের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করে দিয়েছিল রিয়াল। স্বপ্নের রিয়ালে যেতে কুর্তোইস শুধু যে রাজি ছিলেন তা নয়, মাদ্রিদে বাড়ি কেনার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, কুর্তোইসকে বাদ দিয়ে রিয়াল ঝুঁকেছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক হুগো লরিসের দিকে। টটেনহামের এই ফরাসি গোলরক্ষককে নাকি ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাবে দিতে যাচ্ছে রিয়াল।
দলবদলের মৌসুমের এখনো অনেকটা সময় বাকি। রিয়ালের চমক দেখানোর সুযোগ তাই রয়েই গেছে। কিন্তু যেভাবে পছন্দের খেলোয়াড়েরা হাত ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে, রিয়াল সমর্থকদের হতাশার বড় কারণ সেটাই।
তা ছাড়া তাদের সেই হতাশাকে আরও বড় করার জন্য বার্সেলোনা তো রয়েছে মাঠেই। রিয়াল কর্তারা কাউকে রাজি করানোর আগেই বার্সেলোনা আরও বড় কোন চমক দেন কিনা, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। হাজারো হোক, বার্সার রাডারে তো চেলসির ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার উইলিয়ান রয়েছেনই।
