
চট্টগ্রাম উপকূলে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় দুটি নৌকার সংঘর্ষে একটি নৌযান ডুবে যায়। এতে ৮ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে কোস্টগার্ড। বিস্তারিত জানুন।
চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার নৌকা ডুবে ৮ জেলে নিখোঁজ
চট্টগ্রাম উপকূলে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা
চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার নৌযান ডুবে গিয়ে অন্তত ৮ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুরে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় অন্য একটি নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পরিণতি: ৮ নিখোঁজ, ১১ জন উদ্ধার
নৌযানে মোট কতজন ছিলেন?
ডুবে যাওয়া নৌযানটিতে মোট ১৯ জন জেলে ছিলেন। এর মধ্যে ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ৮ জন এখনো নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া জেলেদের কাছ থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
কোথায় ঘটেছে দুর্ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট থেকে গভীর সাগরে মাছ ধরার সময়।
কোস্টগার্ডের তৎপরতা ও অনুসন্ধান অভিযান
কখন জানানো হয় কর্তৃপক্ষকে?
কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাকিব মেহবুব জানান, শুক্রবার সকালেই নৌযানের মালিক ঘটনাটি কোস্টগার্ডকে জানান। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।
উদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে বড় নৌযান
নৌযানটির মালিক মোহাম্মদ মিরাজ জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে একটি বড় নৌকা নিয়ে তাঁরা গভীর সাগরে গেছেন।
নিখোঁজ জেলেদের পরিচয়
নিখোঁজ জেলেদের সবাই নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন:
-
আবুল বাশার
-
জামাল উদ্দিন
-
মো. ফারুক
-
মো. ইদ্রিস
বাকিদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা বলছেন যা ;
উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যেই নৌযানটি ডুবে যায়। তারা জীবন বাঁচাতে সাগরে ভাসতে থাকেন এবং পাশে থাকা একটি নৌকা তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়ার প্রভাব
সমুদ্র উত্তাল থাকায় উদ্ধার কাজে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। কোস্টগার্ড নিয়মিতভাবে টহল এবং অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধার করার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে হেলিকপ্টার ও ডুবুরিরাও যুক্ত করা হতে পারে।
সতর্কবার্তা ও সুপারিশ
-
মাছ ধরার নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
-
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে যাত্রা করা উচিত নয়।
-
নৌযান পরিচালনায় ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
বঙ্গোপসাগরে এই দুর্ঘটনা শুধু একটি মর্মান্তিক ঘটনা নয়, বরং জেলেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এখন সময় এসেছে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও নজরদারির মাধ্যমে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার। নিখোঁজ ৮ জেলের নিরাপদে ফিরে আসার জন্য আমরা সবাই প্রার্থনা করি।
