যুদ্ধবিরোধী বার্তা: ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা বন্ধ করুন
ইতালির উদিনে অনুষ্ঠিত ২০২৫ উয়েফা সুপার কাপ ফাইনাল শুধু ফুটবল নিয়ে ছিল না—এবারের আয়োজন মানবতার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
ম্যাচের আগে মাঠে প্রদর্শিত হয় দুটি ব্যানার:
-
“Stop Killing Children”
-
“Stop Killing Civilians”
এই ব্যানারগুলো দুই দলের খেলোয়াড়দের সামনে উন্মোচন করা হয়, যেন বিশ্বজুড়ে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া যায়।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়—ফোকাস ছিল ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা বন্ধের বার্তা।
গাজার শিশুদের সরব উপস্থিতি
উদ্বোধনী আয়োজনে গাজা উপত্যকা থেকে আসা দুই শরণার্থী শিশু উপস্থিত ছিলেন:
-
তালা (১২ বছর) – চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে মিলানে আসা।
-
মোহাম্মদ (৯ বছর) – যিনি বিমান হামলায় বাবা-মাকে হারিয়েছেন।
তারা উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন-এর পাশে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজনের মানবিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা নিয়ে উয়েফার অবস্থান
উয়েফার শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন জানায়, এই বার্তা শুধু ফিলিস্তিন নয়, বিশ্বের সব যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্য। তবে এবারের আয়োজনে গাজার শিশুদের জন্য বিশেষ সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত দেশসমূহ:
-
ফিলিস্তিন
-
আফগানিস্তান
-
ইরাক
-
ইউক্রেন
-
নাইজেরিয়া
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা নিষিদ্ধ হলেও, এই বার্তাগুলোতে দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, শুধুই মানবিক আবেদন তুলে ধরা হয়েছে।
বিতর্কিত প্রতিক্রিয়া: সালাহ ও ‘ফিলিস্তিনি পেলে’
এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিশরের তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ-এর প্রতিক্রিয়া।
-
ইসরাইলি হামলায় নিহত হন গাজার সাবেক ফুটবলার সুলেইমান আল-ওবেইদ, যিনি পরিচিত ছিলেন “ফিলিস্তিনি পেলে” নামে।
-
জাতীয় দলের হয়ে ২৪ ম্যাচে দুটি গোলসহ শতাধিক গোলের ক্যারিয়ারের মালিক ছিলেন তিনি।
-
উয়েফা তার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানালেও ইসরাইলি হামলার উল্লেখ করেনি, যা নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা বন্ধে বিশ্বজুড়ে বার্তা কেন জরুরি?
-
শিশুদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ।
-
ফিলিস্তিনে একের পর এক বোমা হামলায় শত শত শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।
-
খেলাধুলার মঞ্চে এই বার্তা পৌঁছানো মানেই—বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেওয়া।
FAQ: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
১. উয়েফা কীভাবে ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা নিয়ে বার্তা দিয়েছে?
উয়েফা সুপার কাপের আগে মাঠে “Stop Killing Children” ব্যানার প্রদর্শন করে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। গাজার দুই শিশু অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেয়।
২. এই আয়োজনে কোন দেশের শিশুদের আমন্ত্রণ জানানো হয়?
ফিলিস্তিন ছাড়াও আফগানিস্তান, ইরাক, নাইজেরিয়া ও ইউক্রেনের শিশুদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, যারা যুদ্ধের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত।
উপসংহার: খেলাধুলার মাঠে মানবতার বার্তা
এই বছরের উয়েফা সুপার কাপ প্রমাণ করেছে—ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা বন্ধের বার্তা বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরে উয়েফা যুদ্ধবিরোধী মানবিক অবস্থানকে সামনে এনেছে।
গাজার শিশুদের সরব উপস্থিতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মানবিকতা যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে।
🗣️ ব্রেকিংবিডি নিউজ২৪ এর মতামত:
ফিলিস্তিনে শিশু হত্যা বন্ধে উয়েফার এমন পদক্ষেপ কি বিশ্ব নেতৃত্বকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে বাধ্য করবে?
কমেন্ট করে মতামত জানাতে ভুলবেন না! আরও বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন 👉 ব্রেকিংবিডি নিউজ২৪।
