বাংলা
মো.সুজাউদ দৌলা, সহকারি অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
শব্দদূষণ
সুকুমার বড়ুয়া
প্রশ্ন-১। কবিতায় কোন কোন পশু ও পাখির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সুকুমার বড়ুয়া ‘শব্দদূষণ’ কবিতায় নানা পশু ও পাখির কথা বলেছেন।
যেসব পশুর কথা বলা হয়েছে: শব্দদূষণ কবিতার প্রথমে বলা হয়েছে গরুর কথা। গরু আমাদের গৃহপালিত পশু। তারপর বলা হয়েছে কুকুরের কথা। কারণে অকারণে কুকুর রাতের বেলা ডেকে ওঠে।
যেসব পাখির কথা বলা হয়েছে: কবিতার প্রথমে আছে গৃহপালিত পাখির কথা। হাঁস, কবুতর, মোরগ গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে পালন করা হয়। নানা পাখির গানে সকালের আলো ফোটে। দোয়েল, চড়ুই গান ধরে কিচিরমিচির। ডালে ডালে ডেকে ওঠে ঘুঘু। আর পাতার ফাঁকে ফাঁকে উড়ে ডাকে টুনটুনি। পাখির ডাকে গ্রাম মুখরিত হয়ে ওঠে। শহরের আবর্জনার স্তুপের পাশে দেখা যায় পাতি কাক।
এ পশু-পাখিগুলো কখনো কখনো বিরক্তির কারণ হলেও এগুলোই আমাদের প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সম্পদ।
প্রশ্ন-২। শহরে ঘুমানোয় অসুবিধা কেন?
উত্তর: শহরে ঘুমানোয় অসুবিধা হওয়ার কারণ: শহরের রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চলে। আর বিকট শব্দে বাঁশি বাজায়। দুপুর বেলা পাতি কাক কা-কা করে কর্কশ কণ্ঠে ডেকে ওঠে। ফলে ঘুমানোয় অসুবিধা হয়। তাছাড়া শহরের আধুনিক বাড়ির দরজায় আছে কলিংবেল। লোকে বাইরে থেকে বেল বাজায়। আর ঘরে আছে সিডি, টিভি, টেলিফোন। টিভিতে অনুষ্ঠান চলে রাত-দিন। টেলিফোন বেজে ওঠে যখন-তখন। শহরের গলিপথে ফেরিওয়ালা ফেরি করে। সে জিনিসপত্র বিক্রির জন্য হাঁক দেয়। খাঁ-খাঁ দুপুরে ফেরিওয়ালার এই বিকট হাঁক-ডাক বিরক্ত লাগে। এসব কারণে শহরে ঘুমানোয় অসুবিধা হয়।
প্রশ্ন-৩। কুকুরের ডাক আর পাখির ডাকের মধ্যে কোনটি তোমার ভালো লাগে? কেন?
উত্তর: ‘শব্দদূষণ’ কবিতায় কবি নানা পশুপাখির কথা বলেছেন। যার ডাক আমার ভালো লাগে: কুকুরের ডাক ও পাখির ডাকের মধ্যে পাখির ডাকটি আমার ভালো লাগে। আমার ভালো লাগার কারণ: আমার ভালো লাগে পাখিদের ডাক। গাছের ডালে ডালে আর পাতার ফাঁকে বসে পাখিরা কিচিরমিচির করে গান গায়। সে গান শুনে খুবই ভালো লাগে আমার। কিন্তু কুকুরের ঘেউ-ঘেউ ডাক শুনতে ভালো লাগে না। পাখির ডাক সুমধুর। তার মধুর ডাক শুনতে সবার ভালো লাগে।
প্রশ্ন-৪। গ্রামের মানুষ কোন পাখির ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠে?
উত্তর: গ্রামে মানুষ যে পাখির ডাক শুনে ঘুম থেকে ওঠে: মোরগের ডাক শুনে গ্রামের মানুষের ঘুম ভাঙে। আর সকালের আলো ফুটলে ডেকে ওঠে দোয়েল, ঘুঘু, চড়ুই পাখি। এসব পাখির গান শুনে গ্রামের মানুষ কর্ম-চঞ্চল হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞান
হিমন এডওয়ার্ড গমেজ, সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
আমাদের জীবনে তথ্য
১.“বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আসছে” এই তথ্যটি তুমি টেলিভিশন থেকে পেলে। এখন তুমি কী করবে ?
উত্তর : “বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় আসছে” এই তথ্যটি যদি আমি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারি তাহলে অবশ্যই আমি তা যতদূর সম্ভব সকলকে জানাবো। অর্থাত্ আমরা টেলিভিশনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যটি আমি বিনিময় করব। আমার জানা তথ্যটি বিনিময়ের জন্য আমি বিভিন্ন প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারি। যেমন— টেলিফোনের মাধ্যমে, নিকট আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধবদের জানাতে পারি, খুদে বার্তা (এস. এম. এস.), ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যেমন— ফেসবুক বা টুইটার ব্যবহার করে, ইন্টারনেটের মাধ্যমেও সকলকে সতর্ক করতে পারি। ঘূর্ণিঝড়ের তথ্যটি যদি আমি অন্যান্য মানুষদের জানাতে পারি তবে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের ব্যবস্থা নেবে। ফলে অনেক মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পাবে।
২.কীভাবে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করব তা বর্ণনা কর।
উত্তর : ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রথম কাজ হলো প্রয়োজনীয় তথ্য অনুসন্ধান। নির্দিষ্ট তথ্যের উত্স খোঁজার জন্য আমরা Search ইঞ্জিন নামক অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারি। ইন্টারনেট হলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কাম্পিউটারগুলোকে সংযুক্তকারী বিশাল নেটওয়ার্ক। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্যটি কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সহজেই পেতে পারি। এ কাজের মৌলিক ধাপগুলো হলো—
Search ইঞ্জিন যেমন— গুগল (google), ইয়াহু (yahoo), পিপীলিকা (pipilika) ইত্যাদি ব্যবহার করা।
যে বিষয়ের তথ্যটি অনুসন্ধান করছি সে বিষয় সম্পর্কিত “মূল শব্দটি” -Search Bar” এ লিখে -Search” লিখাটিতে অথবা “Enter Key” তে চাপ দেই।
এক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইটের যে তালিকা আসবে সেখান থেকে ওয়েবসাইট বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যটি সংগ্রহ করা।
৩.কেন তথ্য খুঁজে পেতে, বুঝতে, মূল্যায়ন ও ব্যবহার করতে আমাদের যথাযথ দক্ষতা অর্জন করতে হবে ?
উত্তর : তথ্য খুঁজে পেতে, বুঝতে, মূল্যায়ন ও ব্যবহার করতে আমাদের যথাযথ দক্ষতা অর্জন করা জরুরী। তথ্য খুঁজতে আমাদের প্রথমেই ইন্টারনেটের ব্যবহার জানতে হবে। কেননা তথ্য সংগ্রহ করতে ইন্টারনেটের নানান বিষয় যেমন— সার্চ ইঞ্জিন, সার্চ বার, তথ্য নির্বাচন ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরী তা না হলে তথ্য সংগ্রহকারী তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থ হবে। আবার তথ্য সংগ্রহকারী যদি সঠিক তথ্য ও তথ্যের গুরুত্ব অনুধাবন করতে না পারেন তবে তথ্য জানার কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
জানা তথ্য যদি সকলের নিকট বিনিময় করার প্রয়োজন হয় তবে তা অবশ্যই বিনিময় করতে হবে। তথ্য বিনিময়ের জন্য বিনিময় মাধ্যম যেমন— ইন্টারনেট, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ব্যবহার করার জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। যদি তথ্য সংগ্রহকারী তথ্যের গুরুত্ব মূল্যায়ন করতে না পারেন তবে সে তথ্য ব্যবহারের কোন উপকারে আসবে না।
৪.তথ্য বিনিময় না করলে কী হতে পারে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : তথ্য বিনিময় হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে জানা তথ্য পরিবার, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে আদান-প্রদান করা। তথ্য বিনিময় না করলে আমাদের স্বাভাবিক জীবনের নানান ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। যেমন— যদি আবহাওয়াবিদরা বলেন যে প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাস হবে, কিংবা ঘূর্ণিঝড় হবে এবং এই তথ্যটি যদি বিনিময় তথা কাউকে জানানো না হয় তাহলে সমুদ্র উপকূলের মানুষ ছাড়াও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতি বৃদ্ধি পাবে। শুধু দুর্যোগই নয়, যদি দেশে কোনো রোগ বা আতঙ্কের কোনো ব্যাপার সৃষ্টি হয় তবে তা সকলের কাছে বিনিময় করা উচিত। যদি তা না করা হয় তবে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
