প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, নায়িকার বিরুদ্ধে মামলা!

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয় এটা স্বীকৃত সত্য। এসব নির্যাতন বন্ধ করতে বিভিন্ন দেশে কঠোর আইনও আছে। তবে উল্টো ঘটনাও কিন্তু প্রচুর ঘটে, যা সামনে আসে না। আইন এবং সামাজিকতার সুযোগ নিয়ে অনেক নারীই নিরাপরাধ পুরুষদের বিপদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয় কিংবা নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে। এবার তেমন এক ঘটনায় ভারতের এক নায়িকার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন এক পরিচালক!

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই তরুণী অভিনেত্রী বেশ কয়েকটি বাংলা টেলিফিল্মে অভিনয়ও করেছেন। বুধবার আলিপুর আদালতে সেই প্রতারণা মামলা দায়ের করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ওই যুবক। তার আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতার দাবি, ‘একজন নারী যদি কোনো ছেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের পর প্রতারণার অভিযোগ করতে পারেন, একজন পুরুষ কেন পারবেন না? আমরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। প্রতারণার মামলা গৃহীত হয়েছে।’

জানা গেছে, অভিযোগকারী যুবক চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। একইসঙ্গে তিনি সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি ঝোঁক। চাকরির পাশাপাশি স্বল্প দৈর্ঘের ছবি বানাতে শুরু করেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশে পুরস্কার জিতেছেন।

যুবকের দাবি, ছবি বানানোর সূত্রেই ওই তরুণীর সঙ্গে ৬ বছর আগে তার পরিচয় হয়। তখন দুজনেই ছিলেন বিবাহিত। কর্মসূত্রে তারা একসঙ্গে কলকাতার বাইরে বহুবার গিয়েছেন। ওই যুবকের অভিযোগ, দুজনের মধ্যে যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, তা দুই পরিবারের লোকজনও জানতেন। প্রাথমিকভাবে দুজনেই বিবাহবিচ্ছেদ করে নতুন করে সংসার শুরু করবে বলে ঠিক করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই যুবক বিবাহবিচ্ছেদের মামলা রুজু করেন।

২০১৬ সালে অভিযোগকারী যুবকের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর থেকেই সেই নায়িকার সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। ওই তরুণীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। সম্প্রতি তার ফোন ধরা তো দূরের কথা, দেখাও করতে চাইতেন না ওই তরুণী। এমনকি তাকে বিয়ে করতেও বেঁকে বসেন। এর পরই প্রতারণার অভিযোগ জানিয়ে আদালতে গিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে ওই তরুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে মিডিয়ার সামনে মুখ খুলছেন না।