দীর্ঘ সমীক্ষার পর দেশে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবিত তরমুজ বীজ রোপণ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কৃষকরা। নতুন জাতের এই তরমুজ চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদেও তিনগুণ মুনাফা অর্জন হওয়ায় একই বীজতলায় ফের তরমুজ চাষ শুরু করেছেন চাষিরা। ফলে মালচিং পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সমন্বিত চাষিদের মাঝে।
বেশ চাহিদা সম্পন্ন এই রসালো ফল ব্যাপক উৎপাদন হলে বাজারে সৃজনশীল ফলের ঘাটতি মেটাবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। দেশে অসময়ে তরমুজ চাষের বীজ আমদানি করা হতো চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে তরমুজ বীজ নিয়ে গবেষণা শুরু করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র পটুয়াখালী।
২০২০ সালে সফলতা পেয়ে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি থেকে তরমুজ বারী-১ ও বারী -২ এই দুটি জাতের অনুমোদন পায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মাঠপর্যায়ে এর সফলতা যাছাইয়ে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউপির কুমিরমারা গ্রামে চাষিদের মাঝে এ বীজ বিনামূল্যে বিতরণসহ কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন বিজ্ঞানীরা।
দেশে উদ্ভাবিত হলুদ ও লাল রংঙের তরমুজ স্বল্প পরিচর্য়ায় মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করে সাফল্য পেয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা। বর্তমানে চাষিদের মাচায় ঝুলছে ওপরে সবুজ ও ভেতরে লাল-হলুদ প্রকৃতির তরমুজ। এরই মধ্যে পরিপক্ক তরমুজ ক্ষেত থেকেই বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা।
স্থানীয় বাজারে হলুদ রঙের তরমুজ একেবারেই নতুন ফল হিসেবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ক্রেতাদের মাঝে। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সরেজমিনে ঘুরে ডেইলি বাংলাদেশের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কুমিরমারা গ্রামের চাষি জাকির মিয়ার সঙ্গে।
তিনি জানান, পটুয়াখালী উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে দেশীয় উদ্ভাবিত বীজ ও প্রশিক্ষণ দেয়ার পরে ১৫ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করেন। সামান্য পরিচর্যায় বেশ সাফল্য পেয়ে এরই মধ্যেই ক্ষেত থেকে ৩০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন তিনি। এমনকি একই মালচিং পদ্ধতিতে বীজতলায় বেশ কয়েকবার বীজ বপন করা যায় বলে ফের চাষাবাদ শুরু করেছেন জাকির।
প্রবাসী ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘ বছর প্রবাসে কাটিয়ে দেশে ফিরে করোনায় বেকার সময় কাটাচ্ছিলাম। প্রশিক্ষণ নিয়ে ৬৬ শতাংশ জমিতে বারী ১ ও বারী ২ দেশীয় তরমুজ চাষ করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে মাচায় প্রায় ২ হাজার তরমুজ ঝুলছে। তবে লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
চাষি হান্নান জানান, প্রথমবার এই দেশি জাতের তরমুজ ১০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছেন তিনি। অল্প সময় এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় সারা বছরই এই চাষাবাদ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি। পটুয়াখালী আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রতি বছর বিদেশ থেকে বীজ সংগ্রহে কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।
এই বিবেচনায় দেশে বীজ তৈরিতে ২০১৪ সালে গবেষণা শুরু করি। ২০২০ সালে এসে দেশীয় বীজ উদ্ভাবনে এর সফলতা অর্জন করি। কুমিরমারা গ্রামে চাষিদের মাধ্যমে এই তরমুজ চাষাবাদেও সফল হই। মূলত এর মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে কৃষকরা দেশীয় তরমুজ চাষ করে লাভবান হতে পারবে এবং তারা বীজ সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া দেশব্যাপী এই বীজ বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করা যাবে বলেও জানান তিনি।
