প্রতি কর্মদিবসে চার হাজার ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু করছে সৌদি

ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলান জানিয়েছেন, করোনার কারণে সৌদি আরবে বিদেশি কর্মীদের কর্মস্থান হ্রাস পেলেও বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। গত ৫ বছরে সৌদি আরব ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১লা নভেম্বর (একদিনে) সাড়ে ৮ হাজার কর্মসংস্থান ভিসা (ওয়ার্ক ভিসা) ইস্যু করেছে সৌদি আরব। তাছাড়া প্রতি কর্মদিবসে দেশটি গড়ে ৪ হাজার ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু করছে।

আগামী দিনে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন সৌদি দূত। বলেন, প্রতি বছর (করোনার আগে) প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি পবিত্র হজব্রত পালন করতে সৌদি আরব ভ্রমণ করতেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অতীতের বছরগুলোর ন্যায় বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। বৃহস্পতিবার রাতে বারিধারাস্থ নবনির্মিত সৌদি চ্যান্সরি কমপ্লেক্সে এক রিসিপশনে দেয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৪৫ বছর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সৌদি দূতাবাস।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান। ঢাকায় তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পারস্পরিক স্বার্থ নিশ্চিতে কাজ করে যাবেন বলেও দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি বাংলায় বলেন, ‘সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, আপনাদের মাধ্যমে সকল বাংলাদেশিকে জানাতে চাই, আমি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসি। সৌদি রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি আপনাদের কল্যাণে সর্বদা কাজ করবো ইন্‌শাআল্লাহ।’ ইংরেজিতে দেয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সৌদি আরবই প্রথম রাষ্ট্র যেখানে মোবাইল অ্যাপে বায়োমেট্রিক সিস্টেম চালু হয়েছে। যাতে হজযাত্রীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করার ব্যবস্থা হয়েছে। কুয়েতের পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাষ্ট্র- যে এই মোবাইল অ্যাপের সুবিধা পাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, সৌদি আরবে প্রায় ২৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। তারা বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন। বিপুলসংখ্যক ওই প্রবাসী কর্মী প্রায় ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরব ঘোষিত ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নেও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছেন, যা সৌদি সরকার এবং দেশটির জনগণ গভীরভাবে অনুধাবন করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, কা’বা শরীফের ক্যালিওগ্রাফার বাংলাদেশি কর্মী মুখতার আলমকে গত নভেম্বরে এক রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিয়েছে সৌদি আরব।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ স্থিতিশীলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ক্রমেই বিনিয়োগকারী এবং সৌদি কোম্পানিগুলোর জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, আমি আশা করি পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যেও বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যকার শক্তিশালী সম্পর্ক মুসলিম দুনিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাবে।