পৈতৃক আসনেও হারছেন রাহুল গান্ধী

গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ভারতের উত্তরপ্রদেশের আমেথি আসনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে পেছনে ফেলেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী স্মৃতি ইরানি। ২০০৪ সাল থেকে এই আসনে নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেস সভাপতি লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব করছেন। কিন্তু এবার পৈতৃক এই আসনে হারতে বসেছেন তিনি।

প্রাথমিক ভোট গণনায় রাহুল গান্ধীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন স্মৃতি ইরানি। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আসনে স্মৃতি ইরানির সঙ্গে তার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার হতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

এছাড়াও কেরালার ওয়াইয়ানাদ আসন থেকে নির্বাচনে লড়াই করছেন রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় এই আসনে রাহুল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনৌ থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরের আসন আমেথি। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এই আসন থেকে লড়াই করায় সবার নজরে রয়েছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর কাছে হেরে যাওয়ায় আমেথিতে এবার আগ্রাসী নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। রাহুলের সঙ্গে তার ব্যবধান এক লাখের নিচে কমিয়ে এসেছে। এই আসনে প্রতিনিয়ত সফরে গেছেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন স্মৃতি।

ভারতজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণায় চষে বেড়ালেও আমেথিকে রাহুল গান্ধী তেমন গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি। দেশটির ক্ষমতাসীন এই দল বলছে, রাহুল গান্ধী আমেথি আসনকে অবহেলা করেছে।

নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়ে মাত্র একবার আমেথি সফরে গিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেটিও তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার দিন। এরপর তাকে আর এই আসনের প্রচারণায় দেখা যায়নি। তবে তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আমেথিতে এবং তার মা সোনিয়া গান্ধীর আসন রায়েবেরেলিতে বেশ কয়েকবার সফর করেছিলেন।

গান্ধী পরিবারের ঐতিহ্যবাহী এই আসনে কংগ্রেস প্রার্থীরাই কয়েক দশক ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গান্ধী পরিবারের এই আসনে রাহুল হেরে গেলে তা বিজেপির জন্য বিশাল জয় হিসেবে বিবেচিত হবে। ১৯৯৮ সাল ছাড়া গত তিন দশকে এই আসনে একবারও হারেনি কংগ্রেসের কোনো প্রার্থীই।

পশ্চিমবঙ্গেও উত্থানের ইঙ্গিত বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ২৩ আসনে, বিজেপি ১৮ আসনে এবং কংগ্রেস ১ আসন।

বিজেপির ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত করেছে তারা। ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গে বেশি করে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। তার ফল হাতেনাতেই পেয়েছে বিজেপি।

২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে মাত্র ২টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তখন থেকেই এ রাজ্যে জোরদার প্রচারণা চালিয়ে আসছে তারা। গত দু’বছরে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিজেপি। কিন্তু তারপরেও সেখানে শক্ত অবস্থান তৈরি করে উত্থানের ইঙ্গিত দিল মোদির দল।

নির্বাচনী প্রচারণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন তার দল পশ্চিমবঙ্গে ৪২য়ে ৪২ পাবে। অর্থাৎ ৪২ আসনের সবগুলোই তৃণমূল কংগ্রেসের ঘরে যাওয়ার কথা থাকলেও বিজেপি তা হতে দেয়নি। সেখানে সামান্য কিছু ব্যবধান রয়েছে তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। বিজেপি আর অল্প কিছু আসনে এগিয়ে থাকলেই মমতার পায়ের নিচের ভীত নড়বড়ে হয়ে যেত।

নির্বাচনী প্রচারণায় মমতাকে স্পিড ব্রেকার দিদি বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অপরদিকে মোদিকে এক্সপায়ারি বাবু বলে পাল্টা কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে প্রতিটি দফায় ভোটগ্রহণে ব্যাপক অশান্তি হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।