পাল্টা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনবে বাংলাদেশ

বোয়িং বিমানবাংলাদেশ সরকার পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিস্তারিত জেনে নিন এই বড় চুক্তি, প্রতিনিধি দল, ও বাণিজ্য আলোচনা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য।

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং বিমান কিনবে

বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পাল্টা শুল্ক আলোচনার অংশ হিসেবে বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

বিমান কেনার মাধ্যমে কৌশলগত শুল্ক আলোচনার অগ্রগতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২৯-৩০ জুলাই

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ২৯ ও ৩০ জুলাই ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR) কার্যালয়ে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও তিনি নিজে।

১ আগস্টের মধ্যে ফলাফল আসতে পারে

তিনি বলেন, “এই আলোচনার মধ্যেই ১ আগস্টের সময়সীমা রয়েছে। আমাদের ধারণা, এর আগেই শুল্ক বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।”

বোয়িং বিমান কেনা — পূর্ব পরিকল্পনার পরিসমাপ্তি

বাংলাদেশের বহরে অতিরিক্ত বিমান সংযোজন সরকারের পূর্বপরিকল্পনারই অংশ ছিল। মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা আগেই ছিল। আগে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত ছিল, এখন সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫টি করা হয়েছে।”

বোয়িং সরবরাহ করবে পর্যায়ক্রমে

তিনি আরও বলেন, “বোয়িং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই সরবরাহ তাদের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। ভারত ও ভিয়েতনাম ১০০টি করে এবং ইন্দোনেশিয়া ৫০টি বিমান অর্ডার করেছে, সুতরাং আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে।”

কয়েকটি বিমান মিলবে আগামী ১-২ বছরের মধ্যে

বাংলাদেশ অতিদ্রুত কিছু বোয়িং বিমান পেতে চায়। এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “সম্ভবত আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে কয়েকটি বিমান সরবরাহ পাবে বাংলাদেশ।”


যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন ও তুলা আমদানির উদ্যোগ

বার্ষিক ৯ মিলিয়ন টন গম আমদানি করা হয়

বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির একটি সরকারি চুক্তি সম্পন্ন করেছে। মাহবুবুর রহমান বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বছরে প্রায় ৯ মিলিয়ন টন গম আমদানি করা হয়।”

সয়াবিন ও তুলা আমদানিও চূড়ান্ত পর্যায়ে

বেসরকারি পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন ও তুলা আমদানিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। তুলা আমদানির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও জানান বাণিজ্যসচিব।


বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ

১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি

যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এ ঘাটতি কমাতেই দেশটি পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে। বাংলাদেশও এই শুল্ক নীতির মধ্যে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চায়, এবং বোয়িং চুক্তি সেই কৌশলেরই অংশ।


বিমানের মাধ্যমে বাণিজ্য আলোচনায় কৌশলগত অগ্রগতি

২৫টি বোয়িং বিমান কেনার এই চুক্তি বাংলাদেশের কৌশলগত বাণিজ্য আলোচনায় এক বড় পদক্ষেপ। শুল্ক আলোচনার পাশাপাশি গম, সয়াবিন ও তুলা আমদানির চুক্তিগুলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।