শরতে প্রকৃতি সাজে নতুন মাত্রায়। প্রচণ্ড খরতাপে থেমে থেমে শান্তির শীতল বাতাস ছড়িয়ে আকাশ থেকে ঝরে এক পশলা বৃষ্টি। প্রকৃতির এই বিচিত্র খেলায় জীবনকে আরও আনন্দময় ও সতেজ করতে আপনার পোশাকেও আনতে হবে ভিন্নতা। শরতের সাজ-পোশাক নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী
শরতের ভোরটা শিশিরের স্নিগ্ধতা আর শিউলী ফুলের সুবাস মাখা বাতাসে কেমন যেন মায়াময় মনে হয়। তবে একটু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তপ্ত ছোঁয়ায় শরীরে জ্বালা ধরিয়ে দেওয়া গরম এসে হাজির হয়। এই দিনগুলোয় তাই আপনাকে সাজতে হবে হালকা সাজে। আর এজন্য প্রথমেই বেছে নিন হালকা রঙগুলো। যেমন—ফিকে নীল শাড়িতে জরিপাড় দেওয়া, চাঁপাফুল রং, ধানি রং, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি এবং এর সঙ্গে ম্যাচিং ব্লাউজ। ব্লাউজের ছাটকাটগুলো যেন শালীনতাপূর্ণ হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। যারা সালোয়ার-কামিজ পরেন, তারাও এরকম হালকা রঙগুলোই বেছে নেবেন। তবে সালোয়ার-কামিজ যথাসম্ভব সুতি হওয়াই ভালো। সাজসজ্জার অন্যতম প্রধান অঙ্গই হলো চুল বাঁধা। আর চুল বাঁধার সময় আপনার চুলের ধরন এবং বয়সের দিকটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনার বয়স যদি বাইশের নিচে হয় তাহলে লম্বা বেণী বাঁধুন। এছাড়া ফ্রেঞ্চ রোল, উঁচু চূড়ো খোঁপা কিংবা এম খোঁপা বাঁধতে পারেন। আর বাইশের ওপরে যাদের বয়স, তারা বাঁধুন এলো খোঁপা, গোল খোঁপা কিংবা বিড়া খোঁপা। মনে রাখবেন, হালকা সাজ এবং পোশাকের সঙ্গে ভুলেও জমকালোভাবে চুল বাঁধবেন না। কারণ এতে বেমানান দেখাবে। খোঁপায় মালা কিংবা চিরুনি না পরে বরং একটা কি দুটো ফুল কিংবা ফুলের কুঁড়ি গুঁজে দেবেন। গোলাপের কলি কিংবা রজনীগন্ধার একটা কি দুটা ফুল গুঁজে দিলে আরও চমত্কার দেখাবে। হালকা সাজের সঙ্গে কড়া প্রসাধন আপনাকে করে তুলবে সৌন্দর্যহীন। তাই শুধু স্নো, পাউডার, হালকা লিপস্টিক এবং আইব্রো পেন্সিলের ব্যবহারই যথেষ্ট। আপনি যদি কপালে টিপ পরতে ভালোবাসেন, তবে তা অবশ্যই পরবেন। এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা দরকার। যেমন আপনার কপাল যদি ছোট হয়, তাহলে টিপ না পরলেও চলে। আর যদি পরেনও তাহলে ছোট টিপ বেছে নেবেন। আর আপনার কপাল যদি বড় হয় তাহলে বড় টিপ অপরিহার্য। টিপটি অবশ্যই শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের রঙের সঙ্গে ম্যাচিং করেই পরবেন। ম্যাচিং টিপ না পাওয়া গেলে লাল অথবা মেরুন অথবা কালচে লাল টিপ পরবেন। সাজগোজ পরিবর্তন হয় ঋতুভেদে। শরতের হালকা সাজ প্রসাধনের সঙ্গে গহনা হিসেবে বেছে নিন হালকা কোনো গহনা। সোনা, রুপা, মুক্তা, অক্সিডাইজ, মেটাল, কাচ, মাটি, পুঁতি, কাঠ কিংবা যেকোনো রকমেরই হোক না কেন হাতে প্লেন বালা, গলায় লকেট, কানে দুটো হালকা গহনা কিংবা পাথর বসানো টব কিংবা মুক্তা বসানো দুল পরলেই সুন্দর লাগবে দেখতে। উচ্চতা যাদের বেশি, তারা পরবেন নিচু স্যান্ডেল বা স্লিপার। আর উচ্চতা কম হলে অবশ্যই হিলওয়ালা জুতা পরবেন। জুতার বেলায়ও লক্ষ রাখবেন, তা যেন জমকালো পুঁতি অথবা জরি বসানো না হয়। শরতের পোশাক নিয়ে কে-ক্র্যাফটের কর্ণধার খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘এই মেঘ, এই বৃষ্টি, এই রোদ শরতের আকাশ সদা পরিবর্তনশীল। কিন্তু নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা থাকে পুরো শরত্ জুড়েই। তাই আমরা শরতের পোশাকেও রেখেছি সাদা-নীলের আভাস। নিজেকে প্রকৃতির সাথে মিলিয়ে ফেলার ফ্যাশন বলা যায়। কখনো টাইডাইয়ে, কখনো প্রিন্টে, কখনোবা ভিন্ন কাটের মাধ্যমে এই দুই রঙের কম্বিনেশন রয়েছে। সাথে শরতের ফুলের ও পাতার বিন্যাস, নানা উজ্জ্বল ও বৈচিত্র্যময় ফুলের মোটিফই তাই শরতের পোশাকের প্রধান অলংকার। এই ধারার পোশাক সারিতে আমাদের কালেকশনে রয়েছে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, টপস, পাঞ্জাবি, শার্ট ইত্যাদি।’
