নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার চলচ্চিত্র

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যমই নয়, এর মাধ্যমে অনেক ধরনের প্রতিবাদ হয়েছে। নারী সহিংসতা, যৌতুক, বাল্যবিয়ে, হত্যা, গুমের প্রতিবাদসহ আরো অনেক বিষয়ের কথাই বলা যায়। কিন্তু নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে সিনেমার মাধ্যমে প্রতিবাদ করার বিষয়টি প্রায়ই চোখে পড়ে। ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী ২০১৬ সালে নির্মাণ করেছিলেন ‘পিঙ্ক’। এটি ছিল নারী সহিংসতার প্রতিবাদ হিসেবে বলিউডের এখন পর্যন্ত সর্বশেষ সিনেমা। অমিতাভ বচ্চন অভিনীত এই সিনেমার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর ‘না’ একেবারেই মূল্যহীন। নারী ধর্ষিত হয় প্রতিদিন, প্রতিরাতে। তার ‘না’ কেউই শোনে না। কিন্তু ধর্ষণ, নির্যাতন প্রতিরোধ করতে নারী কেবল একটি শব্দই বলে চলে, ‘না’। কারণ এর চেয়ে আর কোনো উপযুক্ত শব্দ পৃথিবীতে নেই, যেটা দিয়ে বোঝানো সম্ভব নারী রাজি নয়।

এবার নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন এদেশের বেশ কয়েকজন তরুণ নির্মাতা। ক্যামেরা আর গল্পকে নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চলেছেন তারা। এটাকে তারা দেখছেন মুভমেন্ট হিসেবে। যার নাম দিয়েছেন ‘আই স্ট্যান্ড ফর ওমেন’। প্রথম ধাপে নির্মাণ করেছেন ৮টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। যেগুলো তারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান। তাদের মনে ধাক্কা দিতে চান।

এই আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা চলচ্চিত্র নির্মাতা আফজাল হোসেন মুন্না। চলতি বছরের মার্চে ‘সিনেমা হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিপ্লবের হাতিয়ার’ স্লোগানে নারীর ওপর অব্যাহত নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেন তিনি। তিনি নির্মাণ করেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ওল্ডম্যান অ্যান্ড দ্য গার্ল’। সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। জসিম আহমেদ নির্মাণ করেন ‘চকলেট’। চলচ্চিত্রের শক্তিতে বিশ্বাসী এসব নির্মাতাদের মধ্যে প্রথম ধাপে যে ৮ জন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তাদের মধ্যে একমাত্র নারী চলচ্চিত্র নিমার্তা সাকি ফারজানা। তিনি এ আন্দোলনের জন্য নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য পার্ক, দ্য বেঞ্চ অ্যান্ড দ্য গার্ল’।

এই ৩ জন নির্মাতা ছাড়াও ‘আই স্ট্যান্ড ফর ওমেন’ মুভমেন্টে দেখানো আছে খিজির হায়াত খানের পরিচালনায় ‘সে নো টু রেপ’, প্রতীক সরকারের ছবি ‘মুখোশ’, আশিকুর রহমানের পরিচালনায় ‘অসম্ভাবিত’, আসিফ খানের পরিচালনায় ‘দ্য মাদার’ এবং রাজু আহসানের পরিচালনায় ‘লিপস্টিক’ ছবিগুলো। এ প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন মুন্না বলেন, ‘আমাদের নির্মিত সব চলচ্চিত্রই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। প্রথমে আমরা ঢাকাতে সবগুলো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো করবো। পরে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাবো। পর্যায়ক্রমে ইউটিউবেও এগুলো প্রকাশ করা হবে।’ আমাদের নির্মিত সব চলচ্চিত্রই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। প্রথমে আমরা ঢাকাতে সবগুলো স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শো করবো। পরে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখাবো।