দীর্ঘ দেড় মাস পর প্রকাশ্য এসেছেন নানা বিতর্কিত মন্তব্য করে পদ হারানো সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি। শুক্রবার (২১ জানুয়ারী) রাত ১০টার দিকে তার চাচা মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদার ইন্তেকাল করেন। এ মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শনিবার (২২ জানুয়ারী) সকালে চাচাকে শেষ দেখা দেখতে নিজ গ্রাম সরিষাবাড়ির দৌলতপুরে আসেন তিনি। যার ফলে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগের পর ডা. মুরাদ হাসান এই প্রথম প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
জানাজার পূর্বে ডা. মুরাদ হাসান তার মরহুম চাচার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো রাজাকার জন্মগ্রহণ করেনি। কিন্তু জামালপুরের সরিষাবাড়ীর উপজেলার আওনা ইউনিয়নে একটি রাজাকারও জন্মগ্রহণ করেনি, এটা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি এবং সেই পবিত্র মাটি। জানাজা নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান তালুকদারকে। এর আগে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি এক চিত্রনায়িকার সঙ্গে ডা. মুরাদের অশালীন ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের এই সংসদ সদস্যকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৭ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করলে ওইদিন রাতেই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। একইদিনে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় মুরাদ হাসানকে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে মুরাদ হাসানকে তার নিজ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
