
পরিকল্পনা কমিশনের জিইডি প্রকাশিত MPI রিপোর্টে জানা গেছে, বাংলাদেশে ৩৯.৭৭ মিলিয়ন মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার। বান্দরবান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, ঝিনাইদহ সবচেয়ে কম। বিস্তারিত জানতে পড়ুন।
দেশে গড়ে ২৪.০৫% মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক (Multidimensional Poverty Index – MPI) প্রকাশ করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। প্রকাশিত এই রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩৯.৭৭ মিলিয়ন বা প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার।
কোন কোন জেলায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি?
সর্বোচ্চ MPI স্কোরযুক্ত জেলা (Top 10 High MPI Districts):
-
বান্দরবান: ৬৫.৩৬%
-
কক্সবাজার: ৪৭.৭০%
-
সুনামগঞ্জ: ৪৭.৩৬%
-
রাঙামাটি: ৪৫.৮৯%
-
ভোলা: ৪৫.১২%
-
নেত্রকোনা: ৩৮.২১%
-
হবিগঞ্জ: ৩৭.৪৮%
-
খাগড়াছড়ি: ৩৬.৯১%
-
কিশোরগঞ্জ: ৩৬.১১%
-
কুড়িগ্রাম: ৩৫.২৪%
সর্বনিম্ন MPI স্কোরযুক্ত জেলা (Top 10 Low MPI Districts):
-
ঝিনাইদহ: ৮.৬৬%
-
ঢাকা: ৯.১৯%
-
গাজীপুর: ৯.৬৩%
-
যশোর: ১০.৫৮%
-
মেহেরপুর: ১১.০৮%
-
কুষ্টিয়া: ১২.২২%
-
চুয়াডাঙ্গা: ১৩.৫১%
-
মানিকগঞ্জ: ১৪.০৭%
-
ফেনী: ১৪%
-
দিনাজপুর: ১৪.৬২%
রিপোর্টে ব্যবহৃত ১১টি সূচক কী কী?
এই সূচকের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্ধারণে ব্যক্তির আয় নয়, বরং জীবনের মান এবং মৌলিক সেবার প্রাপ্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিচে সূচকগুলো দেওয়া হলো:
বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরূপণে ব্যবহৃত সূচকসমূহ:
-
বিদ্যুতের প্রাপ্যতা
-
নিরাপদ স্যানিটেশন
-
বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা
-
বাসস্থানের মান
-
রান্নার জ্বালানির প্রাপ্যতা
-
দৈনন্দিন সম্পদের প্রাপ্যতা
-
ইন্টারনেট সংযোগ
-
বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি
-
শিক্ষাকালের দৈর্ঘ্য
-
পুষ্টি
-
প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা
শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি
বয়সভিত্তিক MPI বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্য হার বেশি।
বয়সভিত্তিক MPI হার:
-
০-৯ বছর বয়সী শিশু: ২৮.৬৪%
-
১০-১৭ বছর বয়সী কিশোর: ২৮.৮৩%
-
প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর+): ২১.৪৪%
বিভাগভিত্তিক দারিদ্র্যের চিত্র
বিভাগ অনুসারে MPI:
-
সর্বোচ্চ: সিলেট বিভাগ
-
সর্বনিম্ন: খুলনা বিভাগ
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সুপারিশ
অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী (প্রধান অতিথি):
“এই দারিদ্র্য নিরূপণ পদ্ধতি একটি সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কৌশল। এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে টার্গেটেড নীতিমালা নেওয়া সম্ভব হবে।”
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান (পিপিআরসি):
“বিভিন্ন জেলায় ভিন্ন হারে কেন MPI স্কোর এতটা পার্থক্য করছে, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করা জরুরি।”
প্রতিবেদন প্রণয়নে ব্যবহৃত উপাত্ত
এ গবেষণা রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে নিচের দুটি জরিপের ভিত্তিতে:
-
২০১৬ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ (HIES)
-
২০১৯ সালের বহু সূচক বিশিষ্ট গুচ্ছ জরিপ (MICS)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যেহেতু জরিপের তথ্য তুলনামূলক পুরনো, তাই বর্তমানে এই রিপোর্টের বাস্তব প্রভাব বিশ্লেষণে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
বহুমাত্রিক দারিদ্র্য মোকাবেলায় করণীয়
-
স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে টার্গেটেড প্রকল্প গ্রহণ
-
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি
-
শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি
বাংলাদেশে বহুমাত্রিক দারিদ্র্য এখন আর শুধু আয়-ভিত্তিক দারিদ্র্য নয়; বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাসস্থান ও প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকেও চিহ্নিত করছে। এই তথ্য সরকারের নীতি-নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে।
