তুরস্কে ওজিলের নামে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। শুধু রাস্তার নামই নয়, সেখানে এমনভাবে দুটি সাইনবোর্ড টানিয়েছে, যা ওজিলের প্রতি বর্ণবাদী আচরনের নীরব প্রতিবাদও বটে।
মেসুত ওজিলের বাবা মোস্তফা ওজিলের জন্মস্থান তুরস্ক। বাবার দেশ হিসেবে তুরস্কের প্রতি সব সময়ই একটা আলাদা টান রয়েছে মেসুত ওজিলের। তুরস্কে ওজিলদের বাড়িটাও রয়েছে এখনও। যে কারণে, রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে নিজের শেকড়ের দেশে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে নিজের ক্লাবের একটি জার্সি উপহার দেন ওজিল। ইলকায় গুন্ডোগানও ছিলেন সঙ্গে। বিতর্কও মাথাছাড়া দিয়ে ওঠে তখন থেকেই।

তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাজে হওয়ায় দেশটির প্রধানের সঙ্গে দেখা করায় জার্মানির গণমাধ্যম ধুয়ে দেয় তাকে। এবার বিশ্বকাপে জার্মানির শোচনীয় ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণ দেওয়া হচ্ছে ওজিলের ঘাড়ে।
বিশ্বকাপে ওজিলকে দলে না নিতে কোচ জোয়াকিম লোর প্রতি অনুরোধ জানান জার্মানদের একাংশ। তবু তাকে দলভুক্ত করেন এ গুণী কোচ। তবে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়ায় ফের রোষানলে পড়েন আর্সেনালের ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
একপর্যায়ে মৃত্যুর হুমকি পান। শেষ পর্যন্ত তা সহ্য করতে না পেরে জার্মান ফুটবলকে বিদায় জানান। বিদায়বেলায় ওজিলের অভিযোগ, মুসলমান হওয়ার কারণেই নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে তাকে। যখন-তখন বর্ণবৈষম্য ও অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে। তা থেকে মুক্তি পেতেই জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি।
তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাত করায় সমালোচনায় বিদ্ধ ওজিলের পাশে দাঁড়িয়েছেন তুরস্কের জনগণ। ওজিল জার্মানিতে বর্ণবাদীর শিকার, এমন অভিযোগ করতে ছাড়েন নি তারা। এমধ্যেই তুরস্কের একটি রাস্তার নামকরণ করা হয় ওজিলের নামে।
