তারেক-মামুনের গার্লফ্রেন্ডরাও নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী

চিত্রনায়িকা মৌসুমীও আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে আগ্রহী। কিন্তু কে ভুলবে বিএনপি-জামায়াত আমলের কথা? খালেদা জিয়া-তারেক জিয়ার স্নেহভাজন ছিলেন এই অভিনেত্রী। তারেক-খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসিমুখে তাকে দেখাও গেছে।
প্রশ্ন হতে পারে তিনি চিত্রনায়িকা হওয়ার সুবাধে যেতেই পারেন ক্ষমতাসীনদের অনুষ্ঠানে।

যদি তাই হয়, তাহলে আজ মনোনয়ন কেন আওয়ামী লীগে? সে সময় সুবিধা পেয়েছেন, এখনো দরকার? তাকে এর আগে কখনোও রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রচারণাতে অংশ নিয়েছেন নানা অঙ্গনের শতাধিক তারকা। সেখানেও দেখা যায়নি চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে। চিত্রনায়ক ফারুকের প্রচারণাতেও ছিলেন না তিনি। কিন্তু সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।

তাহলে শমী কায়সারদের মতো শিল্পীরা যারা রাজনীতির কারণে বিএনপি-জামায়াতের সময় সংস্কৃতি পরিমন্ডল থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। তারা কেন ভুগবে দলের জন্য?

শুধু মৌসুমী নন। এবার ঠিক কতজন যে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হতে চান। সেটা এখনো সঠিকটা বলা সম্ভব নয়। আর তার জন্য চলছে নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ। রাজনীতির সবখানে এখন তাদের উপস্থিতি। যে কোনো অনুষ্ঠান শেষে নেতাদের বাড়ির দরজা খুললেই নায়িকারা মেকআপ দেওয়া সাজগোজ করা হাসিমুখ।

এই ভীড়টা মূলত এবার হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস পাওয়ায় দলে দলে আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। একাদশ নির্বাচনে বিশাল বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ এবার ৪৩ জন মহিলাকে সংরক্ষিত আসনে এমপি করবে। এ খবরে ঢেউ উঠেছে মিডিয়া পাড়ায়। এরমধ্যে অনেকেই জানেন যে তারা কখনোই মনোনয়ন পাবেন না। তাহলে কেন? সহজ উত্তর, নিজের নাম আওয়ামী লীগের লেখানো।

আশ্চর্য্য হলেও সত্য, বিএনপি-জামাত শাসনামলে যারা ছিলেন জাসাসের সক্রিয় কর্মী, হাওয়া ভবনে যাদের ছিল নিয়মিত যাতায়াত, মৌসুমী-তারেকের ছবি ভাইরাল। অপু এসেছেন চ্যানেল ওয়ানের বিজ্ঞাপনের বদৌলতে। এমনকি কতজনের নামে গুঞ্জন রয়েছে তারেক-গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের গার্লফ্রেন্ড ছিলেন বলে। আজ তারা রাতারাতি আওয়ামী লীগ বনে গেছেন। তারা কী মনে করছেন তাদের কথা আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা ভুলে গেছেন? তাদের জন্য ৫টি প্রশ্ন:

১. নিজের কর্ম ছাড়া জনগণের জন্য এ জীবনে কি করেছেন? ২. আপনি কোন এলাকার বাসিন্দা, তা কি জানে সাধারণ জনগণ?

৩. আপনি দলের কয়টা মিছিলে ছিলেন? আপনি কি কখনো রাজপথে পুলিশের কিংবা বিরোধী দলের হামলার সম্মুখীন হয়েছেন? ৪. আপনার কবে অনুভূত হয়েছে যে আপনি আওয়ামী লীগ? ৫. আজকে মনোনয়ন না পেলে আপনাকে কি দেখা যাবে রাজনীতির মাঠে ময়দানে?

এফডিসি ও নাট্যপাড়া এখন নায়িকাশূন্য। সবাই শুধু নেতাদের বাড়িতেই নয়, দলের কার্যালয়েও ভিড় জমাচ্ছেন। এফডিসিতে আসা-যাওয়া করেন বা মডেলিংয়ে যুক্ত তারাও দৌড়ঝাঁপ করছেন। আওয়ামী লীগের জয়ে মৌমাছির মত ছুটলেই কী হবে? নিজেকে প্রমাণ করুন। শুটিংয়ে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাদের। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন কমপক্ষে ২০ জনের বেশি নায়িকা।

রুপালি পর্দায় সাড়াজাগানো নায়িকা মিষ্টি মেয়ে কবরী দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। ২০০৮ সালে সংসদে সরাসরি ভোটে এমপি হয়েছিলেন। এবার তিনি মহিলা আসনে এমপি হতে চান। শহীদ বুদ্ধিজীবী শহিদুল্লাহ কায়সার ও সাবেক এমপি পান্না কায়সারের মেয়ে অভিনেত্রী শমী কায়সারও দীর্ঘদিন থেকে এ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এছাড়া রোকেয়া প্রাচীও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। এবার তাদের ছাড়াও চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা, সুজাতা, পপি, অরুনা বিশ্বাস, অপু বিশ্বাস, মুক্তি, আনোয়ারা, শাহনূর, ফাল্গুনী হামিদ, রোকেয়া প্রাচী, তারিন জাহান, জ্যোতিকা জ্যোতি, চয়নিকা চৌধুরী, সুইটিসহ পার্শ্বচরিত্রের অভিনেত্রী, মডেল, র‌্যাম্প মডেলরাও এমপি হতে চান!

অবশ্য এসব দেখে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এর অনেকে মুখ টিপে হাসেন। তাদের দাবি এর মধ্যে অনেকেই বিএনপির সঙ্গে ছিলেন, এমনকি জিয়া স্বর্ণপদকও নিয়েছেন। এখন সময়ের প্রয়োজনে তারা আওয়ামী লীগে গেছেন। সময় হলে আবার ফিরবেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, সোনালী-রুপালি পর্দার ঝলসে ওঠা তারকা নয়, দলের সংরক্ষিত নারী আসনে গুরুত্ব দেওয়া হবে মাঠের ত্যাগী পরীক্ষিত নারীনেত্রীদের। যারা দলের চরম দুর্দিনে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠে সক্রিয় থেকেছেন। জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এমন নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তবে সমাজের আলোকিত নারীদের থেকেও দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে দু-একজন তারকা পেতে পারেন। তবে সবটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন, শেষমেষ তিনিই চমক দেখাবেন মন্ত্রিসভার মত।

সূত্রঃ সম্পাদক.কম