তামিমকে নিয়ে পরীমনিকে আগেই সতর্ক করেছিলেন ফারিয়া

ঢাকাই ছবির আলোচিত নায়িকা পরী মনি ও মডেল ফারিয়া শাহরিনের সম্পর্কটা দা-কুমড়ার। মূলত এই দা-কুমড়া সম্পর্কের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একজন, তিনি সাংবাদিক তামিম।

তামিমের সঙ্গে পূর্বে প্রেম ছিল ফারিয়া শাহরীনের। ফারিয়ার দাবী তামিমের লোভী আচরণের জন্য তার সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি সময়ে পরীমনির সঙ্গেও নাকি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে তামিমের। তবে তামিমকে নিয়ে পরীমনিকে আগেই সর্তক করেছিলেন ফারিয়া।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর ফারিয়া তার ফেসবুকে লিখেন, ‘ছবি কথা বলে। দেখেন তো আফা, চিনেন নাকি আপনার হাব্বি থুক্কু বয়ফ্রেন্ড। ২০১৬ সালেই ঘোষণা করে দিয়েছিল, তাকে আমার মতো সুন্দর আর কারো সাথেই লাগবে না। হারও মেনে নিয়েছে।’

তামিমের সঙ্গে ফেসবুকে কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে ফারিয়া লিখেন, ‘মজার ব্যাপার কী জানেন, এই ম্যাসেজগুলো আমি মালয়েশিয়াতে আসার পরের ম্যাসেজ। তখন আমি অলরেডি তাকে ছেড়ে আরেকটা প্রেম করে ওইটা ছেড়েও মালয়েশিয়া চলে এসেছি। সে জানতো, তাও সে আমাকে নক করে ফেরত আসতে চাইতো। মালয়েশিয়া এসে ফেসবুকে ছবি দিয়ে বলতো মিডিয়া গরম করার জন্য। বাট, আই সেইড নো। সবাইকে বলতো আমি রাগ করে মালয়েশিয়া এসেছি। ঝগড়া ছিল।’

ফারিয়ার কথাবার্তায় চলে আসেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা মাহিয়া মাহির কথাও। ফারিয়া পরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নায়িকা মাহিকে তো চেনেন। তারও পায়ে ধরেছেন আপনার হাব্বি to make me understand and go back to his life again, you can ask her. when i had rel with ur hubby’

শুরুর দিকে সিনেমায় পরী মনির স্বল্পবসনা হয়ে হাজির হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বন্ধু মহলে হাসাহাসি করতেন ফারিয়া। এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমরা আপনাকে নিয়ে হাসতাম। আপনি আরেকটু হলেই ন্যাংটা হয়ে যাবেন- এসব বলতাম আপনার কাপড় দেখে, তো তখন আপনার বয়ফ্রেন্ড (তামিম) আপনাকে ফেসবুকে অ্যাড করে। আমি বলি, এই ন্যাংটা মেয়েকে কেন অ্যাড করেছো? সে বলে, ‘জান এসব ন্যাংটা নায়িকাকে হাতে রাখা লাগে। সিজেএফবি-তে নাচানোর জন্য। বুঝোইতো, আমি সাংবাদিক। খাতির রাখতে হয়। ন্যাংটা মেয়ে আমার পছন্দ না। গুগলে সার্চ দিলেই দেখা যায়।’

তামিমকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ও লোভী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে ফারিয়া বলেন, ‘আমাকে পারতো না বোরকা পরাতে। আপনাকে ন্যাংটা রাখে কেন জানেন? কারণ, সে আপনাকে নয়, আপনার টাকা আর ফেইমকে ভালোবাসে। আজকে টাকা দেয়া বন্ধ করেন, আপনাকে চিনবে না। ট্রাষ্ট মি, আমি যে ইনকাম করতাম, সব টাকা দিয়ে দিতাম। তাও বলতো কিছু দেই না! বাপ থেকে পড়ার খরচ নিতাম আমি। আর কোনো টাকা নিতাম না। তার জন্য আমাকে বকতো, কেন টাকা নেই না বাপ থেকে! আমার বাপের কী কী এসেট আছে জানতে চাইতো।’

তিনি আরও লেখেন,‘আর আফা, এতই লুজার আপনার হাব্বি যে, আমি তাকে ছেড়ে দেয়ার পরও সে আমার ফেসবুক আইডি দেড় বছর আটকে রেখেছিল। যাতে আমি ফেসবুকে রিলেশনশীপ সিঙ্গেল না দিতে পারি এবং ফেসবুকের জন্য হলেও তাকে নক করি। আমার একটা ফ্রেন্ডের হলুদ সন্ধ্যা করে দিল আপনার বিএফ। ওখান থেকেও ২ লাখ টাকা সরিয়েছিল। কী লজ্জা, কী লজ্জা!! আমার ফ্রেন্ড আমাকে বললো, চোরের জিএফ!’

তামিমের বিরুদ্ধে মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে ফারিয়া লেখেন, ‘আপনার বিএফ এতই মানসিক অত্যাচার করতো, ফেল করলাম। তারপর সব ছেড়ে আবার উঠে দাঁড়ালাম। অনেক কষ্ট হয় জানেন এই ‘বুড়া বয়সে’। তাও তো পড়ছি! আপনি তো মনে হয় ক্লাস টেনও পাস করেননি।
আর আপনার বিএফ…হা হা হা…সে তো বলে, সে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী! পারলে একটু দেখাইতে বলেন। আমাকে দেখাতে পারেনি সার্টিফিকেট। এমন কী কোন বাসায় থাকতো ওটাও দেখায়নি কোনোদিন। কতটুকু মেন্টালি সিক না হলে কেউ তার নিজের জিএফ-এর ফেসবুক আইডি হ্যাক করে?’

ছোটপর্দার জনপ্রিয় তারকা সাদিয়া জাহান প্রভার সঙ্গে তামিমের সম্পর্ক ছিল দাবী করে ফারিয়া লেখেন, ‘প্রভার সাথে ছিল মহা প্রেম। অপুর্বর সাথে কাজ করতে দিতো না। একটা নরমাল শার্ট পরলে যা তা গালাগালি করতো। মাথায় ঘোমটা দিলে খুশি হতো। বাট, দেখেন আপনাকে কেমনে রাখে? কেউ কাউকে ভালোবাসলে পসেসিভ হবেই। বাট, কেউ যদি আপনাকে ন্যাংটা করে রেখে বাহবা দেয়, তাহলে সেটাকে ভালোবাসা নয়, লোভ বলে। আমি একটা সামান্য নাইটি পরে টিভিসি করেছিলাম দেখে আমাকে বলেছিল, ওর বাবা মা অনেক ধার্মিক। তারা মারা যাবেন, হার্ট অ্যাটাক করবেন! কিন্তু এখন কী বাবা মা বদলে গেছে? নাকি ধার্মিক থেকে মডার্ন হয়ে আপনার মতো নায়িকাকে মেনে নিয়েছে।’