ট্রেনে পরিচয়, বাড়িতে ডেকে বিবস্ত্র করে ন`গ্ন ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি

ট্রেনে পরিচয়ের সূত্র ধরে চলতে থাকে ফোনে কথোপকথন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের সূত্র ধরেই ডেকে আনা হয় বাড়িতে। এরপর তোলা হয় ন`গ্ন ছবি। পরে ওই ছবিকে ব্ল্যা`ক`মেইল করে দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা চাঁদা। এভাবেই প্রতা`রণার শিকার হয়েছেন এক যুবক।

প্রতারণার শিকার ওই যুবকের নাম করিম। পুলিশ বলছে, রাজশাহীতে এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। তারা ফিটিং পার্টির সদস্য। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে ফিটিং পার্টির দুই নারী সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন উপশহর এলাকার রহিমের মেয়ে সাবিনা ওরফে রজনী (২৫), নগরীর শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম ফুলতলার আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল গাফফার (৩০) ও নগরীর চন্দ্রিমা থানার নামোভদ্রা এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে রিয়া আক্তার পাখি (১৯)।

নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন জানান, নগরীর উপশহর এলাকার রহিমের মেয়ে সাবিনা ওরফে রজনী মাঝে মধ্যে ট্রেনে ঢাকায় যাতায়াত করতেন। সেই সুবাদে সরকারী চাকরিজীবী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে রজনী তাকে নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেন।

তার কথায় শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর করিম ওই বাড়িতে যান। রজনী তাকে চা খেতে দেন। একপর্যায়ে তিনি ছাড়াও আরেক নারী ও দুই পুরুষ তার কাছে আসেন। পরে তারা জোরপূর্বক তাকে নগ্ন করে ছবি তোলা শুরু করেন। পরে এর ভিডিও চিত্রও ধারণ করেন। সেই ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ওই ভুক্তভোগী ব্যক্তি জানান, তার কাছে ১০ লাখ টাকা নেই জানালে তার কাছে থাকা সোনার আংটি কেড়ে নেন প্রতারকরা। নন- জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেন। এরপর বাইরে এসে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নেন। পরে ছাড়া পেয়ে ওই ব্যক্তি বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল রোববার সকালে অভিযান চালিয়ে রজনী ও তার প্রেমিক আব্দুল গাফফারসহ পাখিকে গ্রেফতার করে।

এসময় তাদের কাছে থাকা দুইবারে বিকাশের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে নেয়া নগদ ৮ হাজার টাকা, ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের সোনার আংটি, স্বাক্ষরিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, বাদীর নগ্ন ছবি ও ভিডিও চিত্র ধারণকৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মন।