ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পেস বিভাগ নিয়ে বড় আশা ছিল। একে একে ৮ ম্যাচ খেলে ফেললেও পেসবান্ধব উইকেটে দেশের সেরা পেসাররা তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।
তরুণদের মধ্যে সাইফুদ্দিন ও মোস্তাফিজ উইকেট শিকারে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ জেতানোর নায়ক হতে পারেননি। রুবেল হোসেন দুই ম্যাচে করেছেন ভীষণ হতাশ।
পেসারদের উপর ভরসা রাখতে না পারায় দলে থেকেও ৮ ম্যাচে একাদশে সুযোগ পায়নি আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী। শুধু তাই নয়, গেল ৪ বছরে তৈরি হয়নি তেমন কোন গতিতারকাও।
তাই প্রশ্ন আছে কেন এমন ব্যর্থতা! ক্যারিবীয় পেস বোলিং কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশতো দায়িত্বে ছিলেন সেই ২০১৬ থেকে! তাহলে তিন বছর পর কেন এত হায় হুতাশ?
বলার অপেক্ষা রাখেনা এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিতে থাকা এই কোচের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে এবার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘আসলে কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আমাদের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি ছিল।তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন নতুন করে তাকে রাখা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নিবে বোর্ড।’
বিশ্বকাপের আগে বিসিবির এক পরিচালক বেশ বির**ি নিয়ে বলেছিলেন ওয়ালশের দিন শেষ। আর বিশ্বকাপ চলাকালে সেই আলোচনা আরো বেড়ে যায়। ওয়াশকে দিয়ে যে বিসিবি তার কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি তা আরো কয়েক পরিচালকের কথাতেই স্পষ্ট। বার্মিংহামে ম্যাচ দেখতে এসে তাদের একজন বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কী হল তাকে এত দিন রেখে। আমিতো কোন উন্নতিই দেখলাম না। সে শুধু নামেই বড়, কাজে কিছুই হয়নি আমাদের।’
বিসিবির এই পরিচালকের কথাতেই স্পষ্ট এতদিন তারা টাকা খরচ করে হাতিই পেলেছেন। যদিও আকরাম খান একেবারেই ওয়ালশের দোষ দিতে নারাজ।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করিনা, ওয়ালশ ব্যর্থ। আমাদের পেস বিভাগের যে উন্নতি হয়নি তা নয়। গেল কয়েক বছরে তারা দেশের অনেক জয়েই বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে হ্যা, এটি সত্যি যে সবাই যেমনটা আশা করেছে তেমন নয়।’
অন্যদিকে অভিযোগ আছে ওয়ালশ নয় বাংলাদেশের পেসাররাই ওয়ালশের মতো একজন গ্রেটের কাছ থেকে শিখতে পারেননি। এ নিয়ে আকরাম বলেন, ‘আমি তাও মানবো না। হয়তো যেভাবে আমরা চাচ্ছি তা হয়নি। তাই বলে যে একেবারেই শিখতে পারেনি বা আমাদের দেশের ক্রিকেটাররা তার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি তা নয়। এই বিশ্বকাপে সাইফুদ্দিন, মোস্তাফিজ কিন্তু ১০টির বেশি উইকেট পেয়েছে এখন পর্যন্ত। মাশরাফির বিষয়টা ভিন্ন, সে ইনজুরির কারণে হয়তো শতভাগ দিতে পারেনি। রুবেলও ইনজুরিতে ছিল। সব মিলিয়ে বলবো একেবারে খারাপ তা নয়। দেশেও অনেক পেসার তৈরি হচ্ছে। হ্যা, এটা বলতে পারেন ওয়ালশের সঙ্গে চুক্তি বাড়াবো কিনা সেটি নিয়ে। আমি আবার বলছি, এ বিষয়ে বোর্ডই ভাববে।’ তবে আকরাম খান যাই বলুক বিসিবির অনেক কর্মকর্তাই ওয়ালশকে আর দলের সঙ্গে টানার পক্ষে নয়।
সুত্র: মানবজমিন।
