নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে রক্তবমি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২৪ বছর বয়সী এক যবুকের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি ওই যুবক ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে চৌমুহনী পৌর এলাকার পাবলিক হল সংলগ্ন আজিজিয়া কমপ্লেক্সে তার বাসায় আসেন।
কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলার বাসিন্দা এই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ওইভবনসহ পাশের তিনটি ভবন লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আজিজিয়া কমপ্লেক্স, ডাক্তার আহসান উল্লাহ টাওয়ার ও আল মদিনা টাওয়ার লকডাউনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ভবনগুলো পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।
যাতে করে ওইভবনগুলো থেকে কেউ বাহিরে বা বাহির থেকে কেউ যেন ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। লকডাউনকৃত ভবনগুলোর আশপাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহত ওই যুবক নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীর একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের দন্ত চিকিৎসক ডা. শরীফের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় যান। তিন দিন আগে জ্বর নিয়ে ঢাকা থেকে চৌমুহনীতে আসনে তিনি।
এরপর তীব্রতা বেড়ে গেলে ২ দিন আগে চৌমুহনী হকার্স মার্কেট এলাকার একটি ক্লিনিকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়ালের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই যুবকের কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া শুরু হলে পরিবারের লোকজন ডা. আব্দুল আউয়ালকে জানান।
এ সনময় তিনি দ্রুত তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর রাতেই পরিবারের লোকজন তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আউয়াল জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মতো কোন উপসর্গ তার মধ্যে ছিল না। করোনায় আক্রান্ত হলে তার গলা ব্যাথা, মাথা ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট এসব উপসর্গ থাকতো। জ্বরের সঙ্গে তার বাম পায়ের মাংশপেশিতে ব্যথা ছিল এবং শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০০ ডিগ্রি। বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যদিও নিহত যুবকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কোন উপসর্গ ছিল না।
তারপরও তিনি মৃত যুবকের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে শুক্রবার সকালে আইইডিসিআরে পাঠিয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসলে জানা যাবে কি কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন লোক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক যুবককে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই যুবক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মোমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে। লাশের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
