সিরিজ জয়ের কাছে গিয়েও থেমে যেতে হলো বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৩ রানে হেরেছে টাইগাররা। ২৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জয়ের জন্য ৪ রান দূরে থেকে শেষ হল বাংলাদেশের ইনিংস।
শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। হাতে ছিল ৭ উইকেট। ২ ওভারে চাই ১৪, উইকেট ৬টি। এই সময়ের বাস্তবতায় চাইলেও যেন হারা কঠিন। কিন্তু সেই অসাধ্য সাধন করেই ছাড়ল বাংলাদেশ।
সহজ ম্যাচ কঠিন করে হেরে গেল মাশরাফির দল। হাতের মুঠোয় থাকা জয় উপহার দিল ক্যারিবিয়দের। এই জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল হোল্ডাররা।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাশরাফি, মিরাজ, সাকিব, রুবেলদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১০০ রান পাড় করতেই ৪ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিপর্যস্ত ক্যারিবীয়ানদের হাল ধরেন শিমরন হেটমায়ার ও পাওয়েল। ৪৪ রান করে রুবেলের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ভাঙে হেটমায়ার-পাওয়েলের ১০৩ রানের জুটি।
এই জুটির বিদায়ের পর ম্যাচ আবার টাইগারদের নিয়ন্ত্রনে যেতে থাকে। তবে এক প্রান্ত থেকে ঝোড়ো ব্যাটিং চালিয়ে যান শিমরন হেটমেয়ার। হেটমায়ারের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল ২৭১ রান। ৯৩ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় ১২৫ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে হেটমায়ার।
২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে বোলিংয়ের মতো উড়ন্ত সূচনা এনে দেন এনামুল হক বিজয়। কিন্তু ঝড়টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। ৯ বলে ২৩ রান কেরে জেসফের বলে ফিরেন এনামুল। এনামুল বিদায়ের পর রানের চাকা সচল রাখে দুই অভিজ্ঞ তামিম-সাকিব। মাত্র ৪.৪ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। পরের ৫০ করতে বাংলাদেশ খেলে ১৪.৫ ওভার পর্যন্ত। তখনো হাতে রয়েছে ৯টি উইকেট।
কিন্তু এমন ম্যাচও শেষ পর্যন্ত হেরে যায় বাংলাদেশ। তামিম-সাকিব দুজনে হাফসেঞ্চুরি করলেও ইনিংসটা বড় করতে পারনি। বরং তাদের অতিমাত্রায় ডিফেন্স খেলাই ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন করে দিয়েছে। এরপর রিয়াদ-মুশফিকের ব্যাটে জয়ের দিকেই এগিয়ে যেত থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু রিয়াদের দূর্ভাগ্যজনক রান আউটের পর কাজের কাজটা করতে পারেননি অফ ফর্মে থাকা সাব্বির। বরং দলকে কঠিন বিপদে ঠেলে দিয়ে উত্তরসূরীর পথ ধরেন তিনি।
আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে থাকা মুশফিক এবার আর হিরো হতে পারলেন না। শেষ ওভারের প্রথম বলে পাউলের হাতে ক্যাচ দিয়ে হোল্ডারের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন ৬৭ বলে ৬৮ রান করা মুশফিক। চমক দেখাতে পারেননি মোসাদ্দেকও। যার ফলে শেষ নাটকীয়তায় ৩ রানের জয় পায় গায়ানিজরা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পায় লোকাল হিরো শিমরন হেটমায়ার।
