জুনিয়র আর্টিস্ট এই নায়িকা শোনালেন অতীত অপমানের কাহিনি!

জুনিয়র আর্টিস্ট এই- জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক, ‘হৃদয়হরণ বিএ পাশ’-এর নায়িকা রোশনি কলকাতার একটি ওয়েবসাইটকে জানালেন একদিন কতটা অপমানিত হতে হয়েছে তাঁকে শ্যুটিং ফ্লোরে।

বাংলা টেলিভিশনে এখন যাঁরা প্রতিষ্ঠিত নায়ক-নায়িকা অথবা তারকা চরিত্রাভিনেতা, তাঁদের অনেকেরই পেশাগত জীবনের সাফল্য খুব সহজে আসেনি। কেউ কেউ হয়তো প্রথমেই লিড-চরিত্র পেয়েছেন এবং ডেবিউতেই সফল হয়েছেন। কিন্তু অনেকেই রয়েছেন যাঁরা ছোটখাটো চরিত্র দিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং পরে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন।

এই দু’টি স্তরের মাঝখানে যে সময়টুকু পার করতে হয়, সেই সময়টা সবচেয়ে কঠিন কারণ অভিনয় জগতে ছোট চরিত্রের কলাকুশলী এবং জুনিয়র আর্টিস্টদের অনেক লাঞ্ছনা ও অসম্মানের সম্মুখীন হতে হয়। তেমনই একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছিলেন জি বাংলা-র নতুন ধারাবাহিক ‘হৃদয়হরণ’-এর নায়িকা রোশনি তন্বী ভট্টাচার্য।

জুনিয়র আর্টিস্ট এই নায়িকা শোনালেন অতীত অপমানের কাহিনি!

গ্রাফিক্স: বিশ্বজিৎ দাস

‘‘আমি সদ্য ক্লাস টুয়েলভ-এর বোর্ড এক্সাম দিয়েছি, ২০১৫ সাল। আমার মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল যে অভিনেত্রী হই। আমি তখন অভিনয় বা এই ইন্ডাস্ট্রির বিষয়ে কিছুই জানতাম না। প্রথমে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবেই কাজ শুরু করি’’, এবেলা ওয়েবসাইটের কাছে স্মৃতিচারণা করলেন নায়িকা, ‘‘একটা প্রজেক্টে আমার সঙ্গে কাজ করছিল একটি মেয়ে, তার পায়ে লোহার চেয়ার পড়ে যায়। পা ফুলে গিয়েছিল। আমরা যে ঘরে বসেছিলাম সেখানে ঠান্ডা জল বা বরফ কিছু ছিল না। তাই আমি মেয়েটিকে নিয়ে অন্য একটি মেকআপ রুমে যাই। সেই ঘরে তখন আর কেউ ছিলেন না। হঠাৎই প্রোডাকশনের একজন লোক এসে আমাদের বলে, ‘তোরা এখানে কী করছিস? চুরি করতে এসেছিস?!’ আমি প্রচণ্ড শক্‌ড হয়েছিলাম। আর সেইদিন আমি নিজেকে প্রমিস করেছিলাম যে আমি অনেকটা পরিশ্রম করব, নিজেকে তৈরি করব ভাল কাজের জন্য কিন্তু জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে আর কাজ করব না।’’

জুনিয়র আর্টিস্ট এই নায়িকা শোনালেন অতীত অপমানের কাহিনি!

ছবি: রোশনির ফেসবুক পেজ থেকে

এই একটি ঘটনা রোশনির জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এর পরে প্রায় দু’বছর তিনি অভিনয় দক্ষতায় শান দিয়েছেন, বিভিন্ন ওয়র্কশপে অংশ নিয়েছেন এবং ধৈর্য ধরে একের পর এক অডিশন দিয়েছেন পড়াশোনার পাশাপাশি। ‘‘আমি কিন্তু ওই ঘটনার আগে সেভাবে ভাবিইনি যে এই পেশায় আসব। আমার পরিবারের সবাই হয় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়র অথবা কলেজে পড়ান। তাই পড়াশোনা করে কিছু একটা করব ভেবেছিলাম। আমি বি-ফার্মা নিয়ে ভর্তি হই কলেজে, তার পরে ২০১৭ সালে ‘দাদা’ অর্থাৎ স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপ হয়। হি ইজ অ্যান অ্যামেজিং পার্সন। আমি দাদা-র দুটো প্রজেক্টে ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করি— ‘আদরিণী’ ও ‘বাক্সবদল’। ‘আদরিণী’ শেষ হওয়ার বেশ কিছুদিন পরে একদিন দাদা আমাকে ডেকে লুকসেটিং করেন। তখনও আমি জানতাম না যে উনি আমাকে ‘হৃদয়হরণ’-এর নায়িকার চরিত্রে ভাবছেন। আমি অশেষ কৃতজ্ঞ ওঁর কাছে এবং জি বাংলার কাছে আমাকে এই সুযোগটা দেওয়ার জন্য।’’

জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে যাঁকে অপমানিত হতে হয়েছিল একদিন, সেই মেয়েই এখন বাংলা টেলিজগতের সর্বত্র আলোচনার বিষয়। শুধু তাই নয়, ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর পরিচিত বহু মানুষের আচরণও পাল্টে গিয়েছে রাতারাতি। তাই রোশনি বলেন, হয়তো ওইদিন ওইভাবে অপমানিত না হলে নিজেকে অনেকটা উপরে নিয়ে যাওয়ার জেদটা তৈরি হতো না। ‘‘তবে আমি একেবারেই ওই পরিস্থিতিটার জন্য রিপেন্ট করি না, ওটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বলেই আমি মনে করি,’’ জানালেন রোশনি।