জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে হাত পু’ড়ে যাবে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার ক’রেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, জনগণ ফুঁসে উঠেছে। সব স্বৈ’রাচা’রী সরকারের মতো এ সরকারেরও পতন হবে। জিয়াউর রহমান পল্টন ময়দানের বক্তৃতার মাধ্যমে কোনো খেতাব পাননি।
তিনি খেতাব পেয়েছেন বাংলাদেশের জন্য যু’দ্ধ করে, বাংলাদেশকে স্বাধীন করে। অতএব জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে প’রিণাম ভ’য়াবহ হবে। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার অপর নাম জিয়াউর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন।
এদিকে জিয়াউর রহমানের ‘বীর-উত্তম’ খেতাব বা’তিলের অপচে’ষ্টার প্রতিবাদে ২ দিনের ক’র্মসূচি ঘো’ষণা করেছে দলটি। কাল ঢাকাসহ সব মহানগরে এবং রোববার সব জে’লা সদরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্থা’য়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ক’র্মসূচি ঘো’ষণা করেন।সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির স্থা’য়ী কমিটি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘বীর-উত্তম’ খেতাব কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টার তীব্র নি’ন্দা ও প্রতিবাদ জা’নান।
একই স’ঙ্গে এ অন্যায়, অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যমূলক অপচেষ্টার বি’রুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আ’হ্বানও জা’নান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থা’য়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,
সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীর-উত্তম, সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন ও চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরের যৌথ উদ্যো’গে অনুষ্ঠিত বি’ক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থা’য়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, তারেক রহমানসহ নেতাক’র্মী দের সাজা দিচ্ছেন।
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের খেতাব ছিনতাই ক’রতে চাচ্ছেন। এসব করে কোনো লাভ হবে না। দেশের জনগণ ফুঁসে উঠছে, ফুঁসে উঠছে। জনগণের আন্দোলনে একদিন সব স্বৈ’রাচারী স’রকারের মতো এ সরকারেরও প’তন হবে।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার পদক আপনারা ছি’ন’তাই করবেন। ছি’নতা’ই করা আপনাদের অভ্যাস হতে পারে। এটা একটা সুদূ’রপ্রসারী চ’ক্রান্তের অংশ মাত্র। এ পদক এই সরকার দেয়নি। এ পদক স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশের জনগণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বশে তাকে দিয়েছিল।
স্থা’য়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ সরকারের বি’রুদ্ধে এত কথা বলে লাভ নেই। একদ’ফা এক দা’বি। আর কোনো দা’বি নাই, শেখ হাসিনার পদত্যা’গ চাই।তিনি বলেন, কাচের ঘরে বসে অন্যের ঘরে ঢিল মা’রার অভ্যাস পরিত্যা’গ করুন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন, গণতন্ত্র ব’ন্ধ করলে, গণতন্ত্র রু’দ্ধ করলে কী প’রিণতি হয় তার ইতিহাস আছে।
এজন্য এত লম্ফজম্ফ করে লাভ হবে না। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে টানাটানি করলে হাত পুড়ে যাবে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করো’নাভাই’রাসে বিশ্ববাসী আ’তঙ্কগ্রস্ত, আর শেখ হাসিনা বর্তমানে আ’তঙ্কগ্রস্ত আলজাজিরা ভা’ইরাসে।
এ আ’লজাজিরা ভা’ইরাসকে কাউন্টার করার জন্য নতুন নাটক জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নেয়া এবং তারেক রহমানের বি’রুদ্ধে সাজা দেয়া। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর, রাজাকার। তাহলে যে ব্য’ক্তিটি জিয়াউর রহমানকে বীর-উত্তম খেতাব দিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রীর পিতা, তিনি কি?
উনি তো বীর-উত্তম খেতাব দিয়েছেন জিয়াউর রহমানকে। মানুষের হৃদয় থেকে, অন্তর থেকে জিয়াউর রহমানকে মুছে দিতে পারবেন না। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কে’ন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে বিএনপির কে’ন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু,
অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, আজিজুল বারী হেলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, রাজীব আহসান, মহানগর বিএনপির মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু,
ইউনুস মৃধা, হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ফখরুল ইসলাম রবিন, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেইন, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন,
ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভা পরিচালনা করেন মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার ও উত্তরের এজিএম শামসুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর সরাফত আলী সপু, আমিনুল হক,
শামীমুর রহমান শামীম, ইশরাক হোসেন, রফিক শিকদার, সাইফুল আলম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, হেলেন জে’রিন খান, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, তানভীর আহমেদ রবিন, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইকবাল হোসেন শ্যামল, আমিনুর রহমান আমিন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
