জিম্বাবুয়েতেই থাকতে হচ্ছে মুশফিককে

একটু বিশ্রাম নিয়ে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবেন বলে আগেই তিনি ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন জিম্বাবুয়ে সফরের শেষাংশ থেকে। ওই সময়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি না খেলে ওয়ানডে সিরিজ শেষেই দেশে ফেরার কথা ছিল মুশফিকুর রহিমের।

কিন্তু টানা বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকার মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার জন্য যে ছুটি নিয়েছিলেন তিনি, সেটিই আর কাটানো হচ্ছে না এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের। এতে বাদ সাধার কারণও বাংলাদেশ সফরে আসতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়াই। সফরে আসার জন্য তারা কঠিন যে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে, এর একটি এটিও যে আসন্ন সিরিজের খেলোয়াড়দের অন্তত ১০ দিন আগে থেকে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকতে হবে।

২০ জুলাই জিম্বাবুয়েতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পরদিনই দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরলে অস্ট্রেলিয়া আসার আগে সেই ১০ দিন পার করা মুশকিল হবে মুশফিকের জন্য। কারণ জিম্বাবুয়ে সফর শেষে যেদিন (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ দল দেশে ফিরবে, একই দিনে আসছে অস্ট্রেলিয়াও। বিমানবন্দর থেকে দুই দলই সরাসরি হোটেলের জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকে পড়বে। সফরকারীদের দেওয়া শর্তে তাই মুশফিকের ওয়ানডে সিরিজ শেষে দেশে ফেরা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।

মুশফিককে থেকে যেতে হচ্ছে জিম্বাবুয়েতেই। থেকে গেলে তিনি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজও খেলবেন কি না, সেটি এখনো চূড়ান্ত নয় বলেই জানালেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়ক, ‘খেলবে কি না, সে বিষয়টি চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে আরো কয়েকটি দিন লাগবে। লকডাউন উঠে যাওয়ার পর ১৫ জুলাই আমরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছি। এর আগে আজ (গতকাল) রাতে ম্যানেজারের সঙ্গে আরো বিস্তারিত কথা হবে আমাদের। বৈঠক করে আমরা সব চূড়ান্ত করব। এর আগে এটুকুই বলতে পারি, মুশফিককে জিম্বাবুয়েতেই থাকতে হচ্ছে।’

ওয়ানডে সিরিজ শেষে টি-টোয়েন্টি দলে না থাকা আরো কয়েকজন ক্রিকেটারকেও থাকতে হচ্ছে জিম্বাবুয়েতে। বলা ভালো, রেখে দেওয়া হচ্ছে। মিনহাজুল জানালেন সেরকমই, ‘যেহেতু ১০ দিন আগে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢোকার ব্যাপার আছে, তাই ওয়ানডে দলের আরো দুই-তিনজনকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে রেখে দেব আমরা। কারণ যে কেউ অসুস্থ হতে পারে, যখন-তখন পেতে পারে চোটও। সতর্কতা হিসেবেই এই ব্যবস্থা। ১৫ তারিখের বৈঠকেই সব চূড়ান্ত করব।’ তবে দেশে থাকা কেউ যে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলতে পারবেন না, তা-ও নয়, ‘২০ জুলাই থেকে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢুকিয়ে দিলে দেশে থাকা কারো পক্ষে খেলতে সমস্যা হবে না।’

কিন্তু মুশফিকের ফেরার কথা ২০ জুলাইয়ের পর। সে জন্যই ছুটি কাটাতে হলেও থাকতে হবে জিম্বাবুয়েতেই, ‘ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ থেকেই আমাদের অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া শর্তের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা চায় এই সিরিজের সব খেলোয়াড়কে ১০ দিন আগে থেকে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকতে হবে।’ জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকার মানসিক ক্লান্তি কাটানো মুশফিকের জন্য জরুরি বলে মনে করলেও এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্পও দেখছেন না মিনহাজুল, ‘মুশফিক শুধু নয়, এই সময়ে টানা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা সব দেশের ক্রিকেটারদের জন্যই কঠিন। ওর জন্য ব্যাপারটি কঠিন হয়ে গেলেও এই বাস্তবতায় অন্য কিছু করারও নেই।’

সূত্র : কালের কণ্ঠ