জলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারের ২৫ গ্রাম প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এবং পূর্ণিমা তিথির প্রভাবে কক্সবাজার উপকূলে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের পানি ৪/৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে আজ বুধবার সকালে উপকূলে আছড়ে পড়েছে। জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে কক্সবাজারের সাগর দ্বীপ কুতুবদিয়া থেকে সেন্টমার্টিন্স দ্বীপ পর্যন্ত নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পূর্ণিমা তিথির প্রবল জোয়ারের পানিতে কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে ভাটার টানের সাথে সাথেই প্লাবিত উপকূলীয় এলাকার পানিও সরে যেতে শুরু করেছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বুধবার সকালে সাগর পাড়ের ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দেখেছি প্রবল বাতাসের সাথে সাগরের রুদ্ররূপ। ঝড়টি যদি এমন ভরা জোয়ারের সময় আমাদের উপকূলে আঘাত হানত তাহলে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে যেত। মহান আল্লাহ দেশবাসীকে বড় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছেন। জেলা প্রশাসক সাগরের জোয়ারের পানি উপকুলে আছড়ে পড়ার খবর পেয়েই পরিদর্শনে ছুটে যান।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাতাসের সাথে সাগরের উচ্চ জোয়ারের পানি তীরে আঘাত হানতে শুরু করে। দেশের শেষ প্রান্ত এবং সাগরের বুকে ভাসমান একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমাটিন্সের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে জলোচ্ছ্বাসের পানিতে বেশ কিছু এলাকা তলিয়ে গেছে। সাগরের জোয়ারের তোড়ে দ্বীপের একমাত্র জেটিটিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের পানি আঘাত হেনেছে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের কলাতলি পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কটিতেও। এমনকি মেরিন ড্রাইভের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে সাগরের পানি উপচে সাগরতীরবর্তী এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

মহেশখালী দ্বীপের বাসিন্দা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ সামুদ্রিক ঝড়ে কক্সবাজার শহর রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সাগর পাড়ের ঝাউবিথী। সেই ঝাউবিথীও বুধবার সকালের জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ জানান, জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে সৈকতের বেশ কিছু ঝাউগাছও সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়ার বেড়িবাঁধের ভাঙন এলাকা দিয়ে জলোচ্ছ্বাসের পানি ঢুকে দ্বীপের ৬টি ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনুরূপ মহেশখালী দ্বীপের ধলঘাটা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নেরও ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

দ্বীপের ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, ধলঘাটার সুতুরিয়া নামের একটি পুরো গ্রামের বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েই জীবন রক্ষা করেছেন। মাতারবাড়ির উত্তর দিকের বেড়িবাঁধ ভেঙে অন্তত ২টি গ্রাম প্লাবিত হলেও তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পটি অক্ষত রয়েছে।