ছেলের বিয়েতে আসা অতিথিদের শপথ করিয়ে ভোট চাইলেন বাবা

‘ভোট আসে, ভোট যায়, আমাদের অবস্থা সেই তিমিরেই থেকে যায়। তাই ভোট দিয়ে কী হবে?’। ভোটদানের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে জাঁকিয়ে বসেছে এই মানসিকতা। হয়তো অনেকের মনে এখনও রয়ে গেছে। কিন্তু ভারতবাসীর এই অনীহা দূর করতে দেশটির নির্বাচন কমিশন আগেও উদ্যোগ নিয়েছে, এখনও নিয়ে চলেছে নানান প্রচার কৌশল।

ওই কৌশলগুলি যে একেবারে বিফলে যায়নি এর প্রমাণ আগেও মিলেছে, মিলল আবারও। মধ্যপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে যাতে সকলে ভোটদান করেন, ছেলের বিয়ের আমন্ত্রিতদের এমনই আহ্বান জানালেন মানবাধিকার কর্মী আতাউল্লাহ খান। তবে, একদম নয়া কৌশলে।যা দেখে অবাক নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা বলছেন, ‘এভাবেও সম্ভব!’

মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুরে থাকেন মানবাধিকার কর্মী আতাউল্লাহ খান। কয়েকদিন আগেই ছেলে সালমান খানের বিয়ে দেন তিনি। বিয়ের অনুষ্ঠান যেখানে চলছিল সেখানে হিন্দি ও উর্দুতে বেশ কয়েকটি বড় পোস্টার লাগান তিনি। যাতে লেখা ছিল, ‘সকলে ভোট দিন, নিজের ভোট নিজে দিন’। কেবল পোস্টার লাগিয়েই থামেননি তিনি, আমন্ত্রিতদের মৌখিকভাবেও এই একই আরজি জানান আতাউল্লাহ খান। এই উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, ‘আমি মনে করি ভোটদান করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। সেই বোধ থেকেই ছেলের বিয়েতে এই প্রচার করেছি আমি। যেহেতু এই শহরে বেশি সংখ্যক সংখ্যালঘু বাস করেন তাই, হিন্দি ও উর্দু দুই ভাষাতেই পোস্টার লাগিয়েছি।’ আতাউল্লাহর এই প্রচার কৌশল এবার অন্যান্য বিয়ের অনুষ্ঠানগুলিতেও ব্যবহার করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ওই অনুষ্ঠানগুলিতেও এই ধরনের পোস্টার লাগানোর ব্যবস্থা করছে কমিশন।

জানা গেছে, আসন্ন মধ্যপ্রদেশ নির্বাচনে যতটা সম্ভব বেশি সংখ্যক ভোটারকে বুথমুখি করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে প্রচারও শুরু করে দিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মীরা। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি, প্রত্যন্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন কমিশনের কর্মীরা। অনুরোধ করছেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এবং ভোটের মাধ্যমে তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদান করার জন্য। নির্বাচনকে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উত্‍সব বলা হয়। এই উত্‍সবে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের যোগদান করার অধিকার রয়েছে। অধিকার রয়েছে পাঁচ বছরের জন্য নিজের পছন্দের জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে গণতন্ত্রের এই সবচেয়ে বড় উত্‍সব থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বা নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের নাগরিকরা। তা আটকাতেই উদ্যোগ নিচ্ছে কমিশন।