জায়ের ওপর রাগ করে নিজের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন এক গৃহবধূ। নিজেও মরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি।
পরে ছেলের মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই নারী।
রোববার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম মেদেনীপুর জেলার খড়গপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার দিন দুপুরে কাঁটাগেড়িয়া গ্রামের তরুণী কাজল হেমব্রম ছেলের মরদেহ নিয়ে থানায় হাজির হন।
তার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যান পুলিশ সদস্যরাও। অনেক বুঝিয়ে কাজলকে শান্ত করার পর তারা লক্ষ করেন, কোলের শিশু নড়ছে না।
সন্দেহ হওয়ায় দেড় বছরের দীপকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে চিকিৎসকরা দীপকে মৃত ঘোষণা করেন।
খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, অভিযোগ হয়নি। ওই নারীকে আটক করেছি। জায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন উনি। আমরা তদন্ত করছি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আড়াই বছর আগে খড়গপুরের সাঁকোয়ার বাসিন্দা কাজলের সঙ্গে কাঁটাগেড়িয়ার বাপি হেমব্রমের বিয়ে হয়। পেশায় দিনমজুর বাপি এবং তার দাদা ময়রা এলাকায় ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রের খবর, কাজল সন্দেহ করতেন, বাপির সঙ্গে তার বৌদি সোমবারির সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে দুই জায়ের অশান্তি চলছিল।
শনিবার বাপি ও ময়রা জেলার অন্যত্র খেলতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছেলে দীপকে নিয়ে ছিলেন কাজল। সকালে কাজল তার একটি বাসন সোমবারির বাড়িতে দেখে চটে যান। ফের অশান্তি শুরু হয়।
খানিক পর জা ও শাশুড়ি শান্তি হেমব্রম মাঠের কাজে চলে যান। পুলিশকে কাজল জানিয়েছেন, এর পরই রাগের চোটে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শিশুপুত্রের মুখে কাপড় চেপে ধরেন। বেলা ১১টা নাগাদ স্থানীয়রা দেখেন, ছেলেকে কোলে নিয়ে কাজল গ্রাম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তখনও কেউ বোঝেননি কাজল কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
কাজলের কথায়, জায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। তাই আমি নিজেই ছেলেকে মেরেছি। জা বলেছিল আমার স্বামীকে নিয়ে নেবে। তাই মাথা ঠিক রাখতে পারিনি।
যদিও জা সোমবারি বলেন, আমি তো মজা করে বলেছিলাম- সত্যিই তোর স্বামীর সঙ্গে চলে যাব। কিন্তু এ জন্য কেউ নিজের ছেলে খুন করে!
