ছাত্রীকে উপর্যুপুরি ধর্ষণের ফাঁকে ফাঁকে আসর-মাগরিবের নামাযও জামাতে পড়িয়েছে এই ইমাম!

ধর্ষণ, দিনে দিনে যেন বেড়েই চলেছে এর ভয়াবহতা। কোন ভাবেই যেন এর কোন নিস্পত্তি খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং মেয়েরা অনেকটাই যেন অসহায় এই নিকৃষ্ট কাজের কাছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেওই এখন আর সুরক্ষিত না।
সিলেটের জকিগঞ্জের কালিগঞ্জ এলাকার হাজারীচক পশ্চিম মহল্লা নতুন পাঞ্জেগানা জামে মসজিদের ইমামের তালাবদ্ধ ঘর থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় জনতা।

এ সময় মসজিদের ইমাম বারঠাকুরী ইউপির হাসিতলা দৌলতপুর গ্রামের কুতুব উদ্দীনের পুত্র হাসান আহমদকে আটক করে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব আহমদ চৌধুরী জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ডেকে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

রবিবার (১৫ জুলাই) রাত নয়টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, রবিবার কলাকুটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে স্কুল ছুটির পর থেকে পাওয়া যাচ্ছিলনা।

নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারে লোকজন এ ঘটনায় এলাকায় মাইকিং করেন ও আশপাশ এলাকার ডোবা, পুকুর ও সম্ভাব্য সব স্থানে তাকে খোঁজ নিতে থাকেন।

রাত ৮টার দিকে এলাকার লোকজন সন্দেহবসত গ্রামের পাঞ্জেগানা মসজিদের ইমামের কক্ষে তল্লাশি চালালে স্কুল ছাত্রীকে ইমামের খাটের নিচে হাত পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

এলাকাবাসী আরও জানান, ইমাম স্কুল ছাত্রীটিকে তার কক্ষে আটক করে আসর ও মাগরিবের নামাজও জামাতে পড়িয়েছেন।

মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব আহমদ চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের ধারণা কক্ষবদ্ধ করে ইমাম ছাত্রীটিকে নির্যাতন করেছে।

জকিগঞ্জ থানার ওসি জানান, অভিযুক্ত ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামালা করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি আরও বলেন মেয়েটিকে রাস্তা থেকে ডেকে মসজিদের কক্ষে নিয়ে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায় ওই ইমাম। পরে মেয়েটিকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। বর্তমানে মেয়েটি মেডিকেল টেষ্ট এর জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।