মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার প্রেমকে অমর করে রাখতে যে কীর্তি স্থাপন করেছেন তা যে সত্যিই কালোত্তীর্ণ এ কথা নতুন করে বলার নেই। সেই অনন্য কীর্তি তাজমহল আজও বিশ্ববাসীর কাছে এক অপার বিস্ময়ের নাম।
যদিও তাজমহল তৈরির খরুচে বিলাসিতা, নির্মাণ শ্রমিকদের ভাগ্য আর মমতাজের চৌদ্দতম সন্তান ধারণ শাহজাহানের ভালোবাসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এরপরও তাজমহলের নির্মাণশৈলী মানুষকে মুগ্ধ করে।
আজও মানুষ অবাক বিস্ময়ে জানতে চায় এর পেছনের লুকানো সত্য। ইতিহাস কাঁপিয়ে দেওয়া প্রেম কাহিনী অনেক আছে। কিন্তু এমন প্রেম কাহিনী খুব কমই আছে যার সাক্ষী এখনো পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে ঠায় দাঁড়িয়ে।
মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অমর সৃষ্টি তাজমহলের কথা যদি ধরা হয়, তাহলে এমন নিদর্শন পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে তার মত পারেননি ফাইজুল হাসান কাদরি। তবে, স্ত্রীর প্রতি তারও ভালোবাসার কমতি ছিলোনা।

স্ত্রীর মৃত্যুর পর ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে তৈরি করেছিলেন খুদে এক তাজমহল। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর জেলার কাসের কালানের ফাইজুল কাদরি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার এই নিদর্শন তৈরি করে খেতাব পেয়েছিলেন ‘আধুনিক যুগের শাহজাহান’ হিসেবে।
অবশেষে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮৩ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়ে বাদশাহ শাহজাহানের ভালোবাসার অপার নিদর্শন তাজমহলের আদলে বানানো মিনি তাজমহলে শায়িত হচ্ছেন ফাইজুল; শনিবার পূরণ হচ্ছে তার শেষ ইচ্ছা।
জানা যায়, গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১১ সালে ডিসেম্বরে ফাইজুলের স্ত্রী তাজামুল্লি বেগম। ১৯৫৩ সালে বিয়ের বন্ধনে বাঁধা পড়েছিলেন তারা। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই।
স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাজমহলের আদলে ‘মিনি তাজমহল’র নির্মাণ কাজ শুরু করেন ফাইজুল। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, স্ত্রীকে মিনি তাজমহলের ভেতরেই দাফন করেছেন তিনি। মৃত্যুর পর স্ত্রীর কবরের পাশে শায়িত হওয়ার জন্য জায়গা রেখে দেন ফাইজুল।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, সিয়াসাত।
