ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক

ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক
ঘরে ঘরে জ্বর, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক

বর্ষাকালে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, করোনাসহ নানা ভাইরাসজ্বর বেড়ে যাওয়ায় তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে—বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

ভূমিকা

বর্ষাকালের আবহাওয়ার অস্থিরতায় দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা ও করোনা সহ ভাইরাসজ্বর—যা সাধারণ জ্বরের মতো হলেও সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

প্রসঙ্গের বিবরণ

রোগীর চিত্র

  • শোভন মিয়া (৩৬ বছর, গাড়িচালক): চার দিন ধরে জ্বর, গিটে ব্যথা, বমিভাব ও দুর্বলতা; দাঁড়াতেও কষ্ট।

  • মো. মঞ্জুর হোসেন (৫০ বছর): ছয় দিন জ্বর, বৃদ্ধি পায় দুর্বলতা।

  • এক কিশোর (১৩ বছর): সাত দিন ধরে জ্বর নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে উপস্থিত।

এই রোগীদের ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের বেশি জ্বর, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা স্পষ্ট—যা অবহেলার কারণ হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও চলমান রোগ

  • বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ঢিলে-শীতে, গরম-ঠান্ডা ও বৃষ্টির ফলে ভাইরাসজ্বর বেড়েছে। সাধারণত যার যারা সর্দি–কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, শ্বাসতন্ত্র সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তাদের ঝুঁকি বেশি। ছোট শিশুদের ভাইরাসসৃষ্ট জ্বর বেশি দেখা যাচ্ছে

  • ডেঙ্গুচিকুনগুনিয়া যুদ্ধকালীন অবস্থার শান্তু ছড়িয়ে পড়ছে। জিকা ভাইরাসের কিছু ক্ষেত্রও শনাক্ত করা গেছে  ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন: জ্বরের ক্ষেত্রে ভয়ের কারণ নেই, তবে ঠিকমতো চিকিৎসা না নিলে ভয় বাড়ে।

  • ডা. মুশতাক হোসেন (IEDCR): করোনা ও ডেঙ্গু কমলেও মৃদু জ্বর দ্রুত কো ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে বয়স্ক, দুর্বল, শিশু ও গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে। তাঁরা সতর্ক থাকবেন urged।

ভাইরাসজ্বরের ধরন ও লক্ষণ

রোগ তাপমাত্রা লক্ষণগুলো পার্থক্য ও বিশেষত্ব
ডেঙ্গু সম্ভাব্য ১০৩–১০৪°F মাথা, চোখ, হাড়–সন্ধি ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও রক্তস্রাব চোখের পেছনে ব্যথা, তরল হ্রাস ও শ্বাসকষ্ট
চিকুনগুনিয়া ১০৪–১০৫°F জ্বর, তীব্র জয়েন্ট ব্যথা, হাঁটাচলা কঠিন দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা, মৃত্যু দুঃখজনক হলেও কম
করোনা মাঝারি গলা খুসখুস, শ্বাসকষ্ট, শরীরব্যাথা, হালকা মাথাব্যথা তীব্র নয়, শ্বাসতন্ত্র ও গলা সমস্যার মাত্রা বেশি
ইনফ্লুয়েঞ্জা মাঝালি–মাঝারি ঠাণ্ডা, সর্দি, শরীর ম্যাজমাজ, হালকা মাথাব্যথা ডেঙ্গু/চিকুনগুনিয়ার চেয়ে কম তীব্র ব্যথা
জিকা ভাইরাস মাঝারি জ্বর, মাথাব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ—কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ ছাপিয়ে যায় সাধারণত স্বল্পসংখ্যক রোগী, ঝুঁকি কম

কোনো লক্ষণ এলে করণীয়

  • ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে আবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

  • ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরীক্ষা করানো জরুরি, বিশেষত ডায়াবেটিস, লিভার রোগ, গর্ভবতী, স্ট্রোকের রোগীদের জন্য

  • সঠিক পরামর্শ এবং পরীক্ষা ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

নিরাপত্তা ও প্রতিকারমূলক পরামর্শ

  • মশারি ব্যবহার করুন: ঘুমের সময় বা দিনের বিশ্রবে মশারি আবশ্যক।

  • পরিষ্কার পরিবেশ বজায় রাখুন: এডিস মশা জন্মায় এমন জায়গায় পানি জমতে দেবেন না।

  • বন্ধুত্বপূর্ণ সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরিধান করুন: জনবহুল স্থান ও পরিবারের অন্য সদস্য থেকে নিজেকে পৃথক রাখুন।

  • হাত ধোয়া করুন সাবান/স্যানিটাইজার দিয়ে: বিশেষত খাবার আগে এবং ছোঁয়ার পর নিয়মিত।

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল পানীয় গ্রহণ করুন: প্রস্রাব পর্যবেক্ষণ করুন হালকা হলে সতর্ক হোন।

  • বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিন: সারলা ফল ও ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ খাবার সীমহ।

চট্টগ্রামের দৃশ্যপট

চট্টগ্রাম জেলা সরকারি হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু এবং ৬৬৯ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। সরকারি হাসপাতালে এখনও চিকুনগুনিয়া পরীক্ষাসেবা নেই, শুধুমাত্র বেসরকারি সেন্টারে পরীক্ষা চলছে
চট্টগ্রামে চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুর ঘটনা না থাকলেও প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

  • বর্ষাকালে গরম, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসজ্বর বেড়ে যাচ্ছে।

  • তিন দিনের বেশি জ্বর হলে অবহেলা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জা, করোনা—চিকিৎসা ও পরীক্ষা ছাড়া ওষুধ ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে।

  • মাস্ক পরিধান, হাত ধোয়া, মশার হাতছানি বন্ধ করে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিন।

সতর্ক থাকুন, পরিস্কার থাকুন—আপনার ও পরিবারের সুরক্ষায় দায়িত্ব নিন।