মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম স্বর্ণাকে গ্রেপ্তার করেছে পু’লিশ। ফাঁ’দ পেতে এক সৌদি প্রবাসীর কাছ থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ায় তার বি’রু’দ্ধে মা’মলা দা’য়ের করা হয়। সেই মা’মলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১১ মা’র্চ) সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পু’লিশ।
গ্রেফতার হওয়ার পর স্বর্ণার বি”রু’দ্ধে থা’নায় অসংখ্য অভি’যোগ আসা শুরু হয়েছে। শনিবার (১৩ মা’র্চ) দুপুরে গণমাধ্যমকে এমনটাই জা’নিয়েছেন পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমি’শনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভি’যোগের ভিত্তিতে স্বর্ণাকে আ’টক করা হয়েছে। স্বর্ণার গ্রেফতারের খবরে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক যু’বক প্রতারিত হয়েছে জা’নিয়ে পু’লিশের কাছে অভি’যোগ দিচ্ছে।
পু’লিশ সূত্রে জা’না গেছে, ব্ল্যাকমেইল করে সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামকে বিয়ে করেন স্বর্ণা। তারপরই পাল্টে যেতে থাকে তার জীবনযা’পন। চলাফেরায় আসে চাকচিক্য। এসবই হয়েছে কামরুলের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকার মাধ্যমে। পু’লিশ আরো জা’নায়, স্বর্ণা এবং তার পুরো পরিবার প্র’তা’রণার স’ঙ্গে যু’ক্ত। এ চক্রের স’ঙ্গে রিজভী এবং সিহাব নামে দুজন আছে। তারা বিভিন্নভাবে স্বর্ণাকে সহযোগিতা করত। তবে এদের পরিচয় নি’শ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে, মডেল পরিচয়ে ফেসবুকে প্রেম ক’রতেন প্রবাসীদের স’ঙ্গে । কখনো স্বামীর স’ঙ্গে ডিভোর্স আবার সংসারের আর্থিক সং’ক’টসহ নানা কারণ দে’খিয়ে নিতেন টাকা। পরে ক’রতেন বিয়েও। কৌ’শ’লে অ’ন্ত”রঙ্গ মু’হূর্তের ছবি ও ভিডিও ধা’রণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভ”য় দেখিয়ে লিখে নিতেন জায়গা-জমিও। এমনই একটি প্র’তার’ক পরিবার সন্ধান পেয়েছে পু’লিশ। প্র’তারি’তদের দা’বি, ২৮ জনের সাথে এভাবে প্র’তা’রণা করে বিয়ে করে রোমানা হা’তি’য়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
পু’লিশ বলছে, এই পরিবারের প্রতিটি সদস্য প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কাজে জড়িত থাকার কথা স্বী’কার করেছে। রোমানা ইসলাম স্বর্ণা নিজেকে কখনো মডেল, কখনো অভিনেত্রী পরিচয় দিতেন। খুলতেন ভিন্ন ভিন্ন ফেসবুক আইডি। আপলোড ক’রতেন র’গর’গে (আপ’ত্তিকর) সব ছবি। এরপর প্রবাসীদের টার্গেট করে ফ্রেন্ড বানিয়ে গড়ে তুলতেন প্রেমের স’স্পর্ক। তারপর কখনো স্বামীর সাথে বি’চ্ছে’দ আবার কখনো স্বামীহীন সংসারে আর্থিক অন’টনের কথা বলে প্রবাসী ওইসব প্রেমিকদের কাছ থেকে নিতেন টাকা।
ঠিক একইভাবে কখনো ফ্ল্যাট কেনা আবার কখনো গাড়ি কেনার নাম করে রোমানা সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েলের কাছ থেকে এক বছরে বিভিন্ন সময়ে নেন আড়াই কোটি টাকা। প্রতারিত হওয়া প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সে আমা’র সাথে প্রথমে ভাল স’স্পর্কে করে। এরপর লালমাটিয়ায় ফ্ল্যাট কেনার নাম করে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা নেয়। আমি দেশে আসার পর আমাকে বাসায় ডাকে। আমি যাই। গেলে তারা আমাকে কিছুটা একটা খাইয়ে অজ্ঞান করে ফে’লে ।
এরপর আমা’র খা’রা’প ছবি তুলে নেয় ও আমা’র থেকে স্ট্যাম্পে সাইন নিয়ে নেয়। এভাবেই সে আমাকে জো’র করে বিয়ে করে। তার মোবাইল, ঘড়ি, গাড়ি আর সবই আমা’র কিনে দেওয়া। আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে বললেও তা মিথ্যা। তাই আমি আ’ইনের আশ্রয় নিয়েছি। এরপর বিয়ের জন্য দেশে এনে জুয়েলকে কিছুদিন নিজে’র বাসায় আ’টকে রাখেন রোমানা। করেন বিয়েও। এসব শোনার পর নিজে’র আগের স্ত্রীর সাথে জুয়েলের ছা’ড়াছা’ড়িও হয়।
রোমানা হঠাতই একদিন সুযোগ বুঝে ধারণ করেন জুয়েলের অ’ন্ত”রঙ্গ নানা মু’হূর্তের ছবি। এরপর ছবি ও ভিডিও ছ’ড়িয়ে দেওয়ার ভ”য় দেখিয়ে রোমানা জো’র করে স্ট্যাম্পে জুয়েলের সাক্ষর রেখে জায়গা জমি হাতিয়ে নেন। এরপর রোমানাও জুয়েলকে ডিভোর্স দেন। এভাবেই বিয়ের নামে প্র’তা’রণা করে রোমানা ২৮ জন প্রবাসীর কাছ থেকে কোটি টাকা হা’তি’য়ে নিয়েছেন বলে জা’নিয়েছেন প্র’তারি’তরা। আর পু’লিশ বলছে, এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যই বি’পরীত লি’ঙ্গের সাথে একই প্র’ক্রি’য়ার প্রেম ও বিয়ের স’স্পর্কের অভি’নয় করে বি’পু’ল অর্থ হা’তি’য়ে নিয়েছে।
ডিএমপির ডিসি হারুন অর রশীদ বলেন, রোমানা, তার মা, তার ভাই ও ভাইয়ের বউ ও রোমানার ছেলে তারা সবাই এই ব্য’ক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে আসার পর বাসায় নিয়ে উ”ল’ঙ্গ করে তার ছবি তুলে তারা। এরপর টাকা দা’বি করে বসে। টাকা না দিলে সেই ছবি ফেসবুকে ছ’ড়িয়ে দেওয়ার হু’ম’কি দেয়। এ ব্যাপারে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থা’নায় মা’মলা দা’য়ের ক’রেছেন ভু’ক্তভো’গীরা। এ ঘট’নায় প্র’তার’ক পরিবারের ৫ সদস্যকে আ’টক করেছে পু’লিশ।
স্বর্ণা নিজেকে চিত্রনায়িকা দা’বি করলেও তিনি বিজ্ঞাপনে পরিচিত মুখ। ২০১৫ সালে স্বর্ণা অভিনীত ‘রানআউট’ সিনেমাটি মু’ক্তি পায়।
