ক্লাস বাদ দিয়ে এনসিপি’র সমাবেশে যেতে বাধ্য করার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ক্লাস বাদ দিয়ে এনসিপি’র সমাবেশে যেতে বাধ্য করার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ক্লাস বাদ দিয়ে এনসিপি’র সমাবেশে যেতে বাধ্য করার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমাবেশে ক্লাস বাদ দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনা বিশ্লেষণ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সাইফুল বারী, বর্তমানে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী:

  • তিনি জানিয়েছেন যে মঙ্গলবার সকালে ন্যায্য অনুমতি ছাড়া এনসিপি নেতারা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা না বলেই, ক্লাস ত্যাগ করানোর নির্দেশ দেন। এরপর সব ক্লাস বন্ধ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের সমাবেশে নেওয়া হয়।

  • শিক্ষার্থীরা বলছেন, “আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই, তাহলে কেন রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে আমাদের নেওয়া হলো?” — এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তারা তাদের প্রতিবাদ তুলে ধরেছেন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

  • তানজিল আহমেদ (প্রাক্তন):
    “গত দিনের ঘটনা ন্যাক্কারজনক। আমরা আগে জানতাম না যে ক্লাস থেকে বের করে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নেওয়া হবে। যারা বাধ্য করলেন, তাদের শাস্তির দাবি করছি এবং জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

এনসিপির প্রতিক্রিয়া

  • জেলা এনসিপি প্রধান সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন:
    “আমাদের এ ধরনের কোনো নির্দেশনা ছিল না। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করছি এবং বলেছি ভবিষ্যতে কোনো প্রোগ্রামে তাঁদের জড়াতে চাই না। শিক্ষকদের কাছেও আমরা দুঃখ জানিয়েছি।”

সমাবেশ ও বিক্ষোভ বুধবার দুপুরে, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক সংক্ষিপ্ত মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

  • মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব আড্ডায় এসে মিলিত হয়।

  • সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বক্তব্য রাখেন সাইফুল বারী, তানজিল আহমেদ, সজিব আহমেদ সহ অন্য শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশ ও জনা-সক্রিয়তা

  • জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর জুলাই পদযাত্রা শামছুল হক তোরণ থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান রাস্তাগুলো প্রদক্ষিণ শেষে নিরালা মোড়ে পৌঁছে একটি পথ সমাবেশ করে।

  • অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির অনেক দলীয় নেতৃবৃন্দ — সংস্থা север অঞ্চল, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়কসহ — জনসেবামূলক নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা।

  • প্রায় ৯০০ জন পুলিশ সদস্য শহরে নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত ছিল।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ

শিক্ষাঙ্গণে রাজনীতির দুর্ভাবনা

শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো রাজনৈতিক ইভেন্টে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি সম্পূর্ণরূপে অনুচিত।

ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষার্থীদের পক্ষে ক্ষমা দাবি ও কঠোর আন্দোলনের হুমকি তুলে, পরবর্তী পরিস্থিতিতে দিকনির্দেশনা ও স্থগিতাদেশ জরুরি বলে মনে হচ্ছে।

বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন যে, শিক্ষা ও রাজনীতির মধ্যে সুষমতা বজায় রাখতে হলে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া অতি প্রয়োজন। এই ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন আর কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এমন ‘বাধ্যতামূলক রাজনীতি’ থেকে রক্ষা করা হয়— তা প্রত্যাশিত।