পুতিন কিংবা ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান এমানুয়েল ম্যাক্রন যদি বিশ্বকাপ ফুটবলের স্বাদ দিতে হাজির হয়ে যান রাশিয়ার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে! নিরাপত্তা নিয়ে কার্যত গলদঘর্ম হতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের। কিন্তু গ্যালারিতে সকলের সঙ্গেই বিশ্বকাপ মজা উপভোগ করছেন কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। ইনিই ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ইউরোপের ছোট্ট দেশের রাষ্ট্রপ্রধান সমস্ত দায়িত্ব ছেড়েই রাশিয়ায় হাজির হয়ে গেছেন দলকে উৎসাহ দিতে।
শুধু তাই নয়, কোলিন্দা গ্রাবারকে দেখা যাচ্ছে একদম খোলা গ্যালারিতে। আঁটোসাঁটো নিরাপত্তায় মুড়ে কাঁচের ভিআইপি বক্স ছেড়ে সাধারণ দর্শকদের মতোই গ্যালারিতে বসে র্যাকিটিচ, মদ্রিচদের জন্য চিৎকার করছেন। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে স্টেডিয়ামে দেখা গিয়েছিল কোলিন্দাকে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে সেই ম্যাচের একদিন আগেই হাজির হতে চেয়েছিলেন ক্রোয়েট প্রেসিডেন্ট। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজকর্মে আটকে পড়ায় যেতে পারেননি একদিন আগে। তবে ম্যাচের দিনে আর ভুল করেননি।
ইকোনমি ক্লাসের টিকিট কেটে আম জনতার মতোই হাজির হয়েছিলেন নিঝনি নভোগারদ স্টেডিয়ামে। লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ফ্যান আইডি সংগ্রহ করে গ্যালারিতে নির্দিষ্ট সিটে চলে যান তিনি। গায়ে ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি। প্রিয় দলের জয়ের উচ্ছ্বাসে অন্যদের মতোই ভেসে গিয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রনায়কের পরিচয়ও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি স্বর্তস্ফূর্ত উল্লাসে। গ্যালারি থেকেই নিজের বিভিন্ন ছবি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
গ্যালারিতে সাধারণ দর্শকের সাথে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ
ম্যাচের পরে ফুটবলারদের উৎসাহ তিনি হাজির হয়ে দলের ড্রেসিংরুমে। প্রত্যেক ফুটবলারকে কোলাকুলি করেন তিনি। পরে নিজের ফুটবল-উচ্ছ্বাসের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘আমিও সাধারণ নাগরিকের মতো ফুটবল সমর্থক। ভিআইপি বক্সে খেলা দেখলে প্রোটোকল মেনে সব কিছু করতে হয়। খোলা গ্যালারিতে দলের জন্য গলা ফাটাতে সমস্যা হয় না। তাই এমন সিদ্ধান্ত।’
হয়তো প্রেসিডেন্টের উৎসাহ ক্রোয়েটদের জন্য বাড়তি প্রেরণা। ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন…
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সময় শনিবার (৭ জুলাই) রাত ১২টায় স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষে সেমিতে উঠার লক্ষে মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়া।
