কোচ-খেলোয়াড় থেকে বর-বউ

শুরুতে গুরু-শিষ্য। জীবনের নানা ঝড় সামলে আজ এক হয়েছেন দু’জন। পরস্পরের প্রতি সম্মান আর বিশ্বা’সই মূল ভিত্তি এস এ গেমসে স্বর্ণজয়ী কারাতে খেলোয়াড় হু’মায়রা আকতার অন্তরা ও বিকেএসপির কারাতে কোচ হোসেন খান মুনের অটুট বন্ধনের। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে দুজন আছেন দুই জায়গায়। অনুভূতি প্রকাশে প্রযু’ক্তিই ভরসা তাদের। প্রিয়জনের সাফল্য যাত্রায় ছায়া হয়ে পাশে থাকতে চান মুন। অন্তরার স্বপ্ন এশিয়ার মঞ্চে সেরা হওয়ার।

করো’না বদলে দিয়েছে জীবনের রং। নিউ নরমাল লাইফে ভালোবাসা প্রকাশেও এসেছে পরিবর্তন। বর্ণিল সাজে প্রিয়জনের সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠার নেই উপায়। ভালোবাসা প্রকাশে প্রযু’ক্তিই তাই ভরসা এস এ গেমসে স্বর্ণজয়ী কারাতে খেলোয়াড় হু’মায়রা আক্তার অন্তরার। স্বামী ২০১০ সালে স্বর্ণজয়ী কারাতে খেলোয়াড় হোসেন খান মুন বিকেএসপির কোচ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে আছেন খুলনায়। বিয়ের পর প্রথম ভালোবাসার দিনটি তাই প্রিয়জন ছাড়াই কাটছে অন্তরার।

দূরত্ব যতই হোক না কেনো, প্রযু’ক্তি তাদের গেঁথেছে এক সুতোয়।নেপালে ২০১৯ সালের এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী কারাতে খেলোয়াড় হু’মায়রা আকতার অন্তরা বলেন, আমাদের বিয়ের পর এই প্রথম ভ্যালেন্টাইন ডে এসেছে। ইচ্ছে ছিলো একসঙ্গে থাকার। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালনে আম’রা দু’জনেই সচেতন। তাই ও বিকেএসপির কাজে খুলনায় যাওয়াটা আমি সহ’জভাবেই নিয়েছি। আমাদের কাছে কাজটাই আগে। তবে, ম্যাসেঞ্জারে আম’রা দু’জনেই নিজেদের অনুভূতিগুলো ভাগ করে নিয়েছি এটাই আমাদের কাছে বড় পাওয়া।

কোচ মুনের সঙ্গে তারই ছা’ত্রী অন্তরার ভালবাসা থেকে পরিণয়ের পথে আসে নানা ঝড়। শক্ত হাতে সব সামলেছেন মুন-অন্তরা দম্পতি।অন্তরা বলেন, আমাদের জীবনে শুরুতে অনেক ঝড় এসেছিলো। কিন্তু সব সময়ই মুন আমা’র পাশে ছিলো। আমা’র স্বপ্ন পূরণে তিনি সব সময়েই সাহায্য করেছেন। আমাদের ভালবাসার অটুট বন্ধনের মূল ভিত্তি পরস্পরের প্রতি বিশ্বা’স ও সম্মান। স্বামী হিসেবে সে আমাকে শতভাগ সহায়তা করে। তার সহযোগিতা ছাড়া এতদূর যাওয়া আমা’র পক্ষে সম্ভব ছিলনা।

অন্তরার স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার। স্ত্রী’র সেই স্বপ্নপূরণে ছায়া হয়ে আজীবন পাশে থাকতে চান মুন।২০১০ সালে এস এ গেমসে স্বর্ণজয়ী মুন বলেন, বিশেষ দিনে অন্তরাকে খুব মনে পড়ছে। ওর স্বপ্ন এশিয়ান গেমসে স্বর্ণ জয় করা। এ জন্য আমি সব সময় ওকে অনুপ্রেরণা যোগাই। সারা জীবন এভাবেই পাশে থাকতে চাই আম’রা।