আমার অনেক কথা আছে, ছোট করে বলব। পরপর আমি তিনবার শিল্পী সমিতির সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছি। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। মিশা-জায়েদ ভাইদের সঙ্গে চার বছর ছিলাম। এই করোনার সময় আমি অনেক কাজ করেছি। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শিল্পীদের দিয়েছি। অভিনেত্রী নিপুণের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিতরণ করেছি।
কেন নিপুণের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সবাইকে দিতাম- এইটা আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। আমার কমিটি আমাকে চার্জ করতে লাগল। সেই টাকাগুলো কেন সমিতিতে দিই না। কেন বাইরে বাইরে এককভাবে শিল্পীদের সাহায্য করছি। এটা কি যুক্তি হলো? তারা শুধু প্রচার চায় সব কিছুতে। এটাই মুখ্য উদ্দেশ্য- বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন চিত্রনায়িকা জেসমিন।
আসন্ন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৩ মেয়াদের নির্বাচন। দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন উপলক্ষে ইলিয়াস কাঞ্চনের নির্বাচনে আসা উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্যানেল ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেসমিন। কথা বলতে গিয়ে একসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই শিল্পী।
ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণের এই প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন চিত্রনায়ক রিয়াজ, সাইমন, নিরব ও আরো অনেকে। জেসমিন বলেন, ‘আমি তো শিশু শিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেছি এই ইন্ডাস্ট্রিতে। আমরা যারা ছোট শিল্পী, দিন এনে দিন খাই। করোনার কারণে কাজ না পেয়ে কষ্টে ছিল অনেকেই। তাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন নিপুণ।
ফেসবুক দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই অভিনয়শিল্পী বলেন, ‘এককভাবে হেল্প করেছেন বলে ওরা নিপুণকে এফডিতে ঢুকতে পর্যন্ত দেয়নি। তিনি বৃষ্টির মধ্যে হাতিরঝিলে দাঁড়িয়ে টাকা বিতরণ করেছেন। কাউকে জানাননি সে কথা। মিডিয়ায় গলাবাজি করেননি। করোনা বীর বলে নিজেকে জাহির করেননি। এটাই হচ্ছে আসল শিল্পীর পরিচয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে তিন সপ্তাহ ছিলাম। আমার শিল্পী সমিতির কমিটির কোনো সদস্য দেখতে যায়নি। তাদের কাছে এত খারাপ হয়ে গিয়েছি যে তারা আমার কোনো খবর রাখেনি। সব হচ্ছে নোংরা মনের রাজনীতি। এই নিপুণের পাশে দাঁড়ান। তার প্যানেলকে ভোট দিন। যারা ফেসবুকে অভিনয় করে বেড়ায় তাদের পাশে থাকবেন না। কী বলব আসলে, ভেতরের অনেক খবর তো কেউ জানে না।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ
