ক’রোনা আ’তঙ্কে রো’গীশূন্য হচ্ছে রাজধানীর হাসপাতালগুলো

হাসপাতাল থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে ক’রোনাভা’ইরাসে, এই ভ’য়ে হাসপাতাল ত্যাগ করছে অন্যান্ন রো’গীরা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ১০টি হাসপাতালে এমনই চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালগুলোতে হাঁচি, সর্দি ও কাশির জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও কাউকে দেখা যাচ্ছে না। কোনো কোনো হাসপাতালের কিছু কিছু কাউন্টারে ঝুলছে তালাও। সেজন্য অলস সময় পার করছে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মীরা।

যেখানে সারাবছর শেরেবাংলা নগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল), জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা শি’শু হাসপাতাল, ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল, জাতীয় মা’নসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি, জাতীয় হৃদরো’গ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরো’গ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র রো’গী ও তার স্বজনদের ভিড়ে গমগম করতে থাকে। কিন্তু ৮ মার্চ দেশে প্রথম ক’রোনাভা’ইরাসে শনাক্ত হওয়ার পর কমতে থাকে রো’গীর সংখ্যা। সং’ক্র’মণ রোধে সবশেষ ২৬ মার্চ থেকে স’রকারি-বেস’রকারি সব প্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হলে হাসপাতালগুলো খালি হতে থাকে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এসব হাসপাতালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সবগুলো হাসপাতাল যেন শূন্য হয়ে গেছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের আনসার সদস্য সামাদ বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রবেশের জন্য আগে থেকেই কড়াকড়ি রয়েছে। এখানে আগে প্রতিদিন সারা দেশ থেকে অনেক রো’গী আসতেন। কিন্তু ক’রোনাভা’ইরাসেের কারণে সারাদিনে খুব কম রো’গী আসছেন। আবার কারও মধ্যে ক’রোনার কোনো উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা গেলে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কারও যদি এ ধরনের উপসর্গ না থাকে তবেই হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন।

পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে নতুন করে তেমন কোনো রো’গী ভর্তি হচ্ছেন না। বেড সব ফাঁকা পড়ে আছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নুরু বলেন, ক’রোনার প্রভাব শুধু হাসপাতালে নয়, সারা দেশে পড়েছে। এখানে সাধারণত প্রতিদিন সারা দেশ থেকে হাজার হাজার রো’গী আসতেন। কিন্তু লকডাউনে একেবারেই রো’গী আসছেন না।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকে রো’গী নেই। আছেন কয়েকজন আনসার সদস্য। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সারা দেশ লকডাউন, আজ কোনো রো’গী আসেননি। পাশেই ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল, সেখানেও কোনো নতুন রো’গী ভর্তি হননি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা শি’শু হাসপাতালেও কোনো নতুন রো’গী তেমন আসছেন না বললেই চলে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রেজওয়ানুল জানান, ক’রোনাভা’ইরাসেের কারণে একেবারেই নতুন করে রো’গী ভর্তি হচ্ছেন না। জাতীয় মা’নসিক স্বাস্থ্য হাসপাতালে কেবল নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদেরই দেখা যায়। কোনো রো’গী আসেননি বলে জানান তারাও।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজিতে দেখা যায়, পুরনো রো’গীর স্বজনেরা ছাড়া কোনো ভিড় নেই। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের অনেককে অলস সময় কা’টাতে দেখা যায়। জাতীয় হৃদরো’গ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, সারাদিনে ৫ জন রো’গী এসেছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আজ সারাদিনে পাঁচজন রো’গী এসেছেন, এদের মধ্যে চারজন বলতে পারেন না তাদের কী সমস্যা হয়েছে। আরেকজনকে হার্টের সমস্যা আছে কি-না জানার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, একজন কর্মকর্তা টিকেট কাউন্টারে বসে থাকলেও নেই রো’গী বা তার স্বজনদের কোনো ভিড়। হাঁচি, সর্দি ও কাশির জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বরং কাউন্টারে ঝুলছে তালা। জাতীয় বাতজ্বর ও হৃদরো’গ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে গেলে সেখানে কথা বলার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়া ক’রোনাভা’ইরাসে এখন বৈশ্বিক ম’হামা’রি। বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাই’রাসটি। এখন পর্যন্ত এই প্রা’ণঘা’তী ভাই’রাসে আ’ক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ এবং মা’রা গেছেন ২২ হাজার ৫৮ জন মানুষ। অপরদিকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৬০৭ জন। বাংলাদেশে এ ভাই’রাস শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিন দিন এ ভাই’রাসে সং’ক্র’মণের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশে এখন পর্যন্ত ৪৪ জন আ’ক্রান্ত হয়েছেন, মা’রা গেছেন পাঁচজন।

সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১১ জন। ক’রোনার বিস্তাররোধে দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং সব স’রকারি-বেস’রকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ও’পর। চীন ও যুক্তরাজ্য ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আ’দালতও। এমনকি একাধিক এলাকাকে লকডাউনও ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ সব ধরনের গণপরিবহন। এ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জে’লায় মোতায়েন রয়েছে স’শস্ত্র বাহিনী।