করোনা আতঙ্কে ইসরাইল খুলে দিলো যুদ্ধাকালীন বাংকার

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ায় পাবর্ত্য এলাকায় নির্মিত একটি যুদ্ধাকালীন বাংকার খুলে দিয়েছে ইসরাইল। করোনা থেকে বাঁচতে সেই বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছে দেশটির অনেক নাগরিক। খবর রয়টার্স।

লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের হামাস যোদ্ধাদের হামলা থেকে বাঁচতেই এই বাংকার নির্মাণ করেছিল ইসরাইল। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে বাড়তে থাকায় বাংকার খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

পরমাণু অস্ত্রের হামলা থেকে বাঁচতে এক দশকেরও বেশি সময় আগে জেরুজালেমের পাবর্ত্য এলাকায় এ বাংকার নির্মিত হয়েছিল।

ন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট সেন্টার নামের এই বাংকারটিতে বসবাসের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। করোনা মহামারীর চরম ঝুঁকির মুখে চলতি সপ্তাহে বাংকারটি খুলে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসারইলি কর্তৃপক্ষ।

দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এই পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে হবে। দেশে করোনার প্রভাব হ্রাস করতে এটা আমাদের বেশ সাহায্য করবে বলেই প্রত্যাশা। তবে করোনার ভয়ে বাংকারে থাকার বিরোধিতা করেছেন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেছেন, ‘আমাদের ওপর কোনো মিসাইল হামলা হচ্ছে না যে মাটির নিচে থাকতে হবে।’ বিষয়টি নিয়ে মজা নিচ্ছেন মন্ত্রিসভার কোনো কোনো সদস্য। এখন পর্যন্ত ইসরাইলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৯৫। এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৯৫ জনের অবস্থা গুরুতর।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। একইসঙ্গে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭৭ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৭ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৫০ জন।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৮১৫। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৩ হাজার ৭১৬ জন।

এছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৫৫ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৮৬৭ জনের অবস্থা সাধারণ। বাকি ২৯ হাজার ৪৮৮ জনের অবস্থা গুরুতর, যাদের অধিকাংশই আইসিউতে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ১১ হাজার ৫৯১ জন। ইতোমধ্যে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি স্থান চীনকেও পেছনে ফেলেছে স্পেন। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ৭১৬ জন। চীনে ৩ হাজার ৩০৫ ফ্রান্সে ৩ হাজার ২৪ জন। ইরানে ২ হাজার ৭৫৭ জন। আর যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১৪৮ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৪০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।