সাত দশক ধরে গানপ্রেমীদের সুরের জাদুতে মাতিয়ে শনিবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভারতীয় সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। করোনা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৮ জানুয়ারি তিনি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সম্প্রতি করোনামুক্ত হলেও কোভিড পরবর্তী ধকলটা আর সামলাতে পারেননি।
লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে গোটা ভারতজুড়ে শোকের ছায়া। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক জানিয়েছেন বলিউড, টলিউড ও দক্ষিণী সিনেমার বহু তারকা। শোক জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষও। বহু বছর ধরে সব শ্রেণির মানুষকেই তো তিনি তাঁর সুরেলা কণ্ঠ শুনিয়ে মোহিত করে রেখেছিলেন। সেই সুর যে আর কোনো দিন শোনা যাবে না।
তবে গলায় বারবার সুর বাঁধলেও কোনোদিন ঘর বাঁধেননি কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পী। অর্থাৎ, জীবনে বিয়ে করেননি লতা মঙ্গেশকর। কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা বহু বছর ধরে সকলের কাছেই ছিল অজানা। অবশেষে ২০১৮ সালের জন্মদিনে একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই অজানা কথা ফাঁস করেছিলেন ৩০ হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া এই শিল্পী।
১৯২৯ সালে মধ্য প্রদেশের ইন্দোরে এক মধ্যবিত্ত মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। পণ্ডিত দিনানাথ মঙ্গেশকরের বড় মেয়ে তিনি। এসব বিষয় সকল লতা ভক্তই জানেন। কিন্তু কী কারণে তিনি কুমারী থেকেছেন, সেটা হয়তো অনেকেরই অজানা ছিল। যারা জানেন, তারা হয়তো গায়িকার এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে বাহবাই দেবেন।
সাক্ষাৎকারে লতা জানিয়েছিলেন, বলিউড ইতিহাসের প্রথম সুপারস্টার কুন্দনলাল সাইগালের চলচ্চিত্র ‘চণ্ডীদাস’ দেখে তাকে তাঁর মনে ধরেছিল। শৈশবে গায়িকার ইচ্ছা ছিল, বড় হয়ে সাইগালকেই বিয়ে করবেন। কিন্তু তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। লতা জানান, পরিবারের সকল সদস্যের দায়িত্ব তাঁর ওপর ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের চিন্তা এলেও সেটাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেননি।
লতার ভাষায়, সে সময় সংসার করার মতো সময় নাকি ছিল না তাঁর। তাই গান-বাজনাকেই জীবনের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে বেছে নেন সংগীত জগতের আকাশ থেকে সদ্য ঝরে পড়া এই কিংবদন্তি। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে লতা ছিলেন সর্বজ্যেষ্ঠ। তার বাকি ভাইবোনেরা হলেন- আশা ভোঁসলে, ঊষা মঙ্গেশকর, মীনা মঙ্গেশকর ও হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর।
