ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালো টাইগাররা; সিরিজ জয় বাংলাদেশের

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করেছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথমে ব্যাটিং করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮.৩ ওভার খেলে ২ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান করে বাংলাদেশ। ফলে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। সেই সাথে ওয়ানডে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ। এর অাগে টেস্ট সিরিজ বাংলাওয়াশ হয় উন্ডিজরা।

এদিকে, শুরুতেই ব্যাটিংয়ে নামে ওপেনিং জুটি তামিম ও লিটন দাস। দারুনভাবে ব্যাটিং করছিল এই দুই ওপেনার। তবে বেশি দূর এগিয়ে যেতে পারেনি লিটন দাস। ৩৩ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি। পরে ব্যাটিংয়ে নামেন সৌম্য। তামিম-সৌম্য জুটিতেই বধ উন্ডিজরা। দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি করেন তামিম। পরে সৌম্যও দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি করেন। সৌম্য ৮১ বলে ৮০ রান করে আউট হন। তামিম ১০৪ বলে ৮১ ও মুশফিক ১৪ বলে ১৬ অপরাজিত থাকেন।

এর আগে শুরুতেই উইকেট পায় টাইগার মেহেদী হাসান মিরাজ; অাউট করেন হেমরাজকে। পরে আবারো উইকেট পান মিরাজ; অাউট করেন ড্যারেন ব্রাভোকে। পরে মারলন স্যামুয়েলসকে বোল্ট অাউট করে দেন টাইগার সাইফউদ্দিন। পরে আবারো মিরাজের উইকেট। আউট করেন শিমরন হেটমেয়ারকে। পরে আবারো উইকেট। মিরাজের ৪ উইকেট; এবার আউট করেন রোভম্যান পাওয়েলকে।

পরে রোস্টন চেজকে আউট করেন সাকিব। পরে আবারো উইকেট পান সাকিব। ফেরান ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে। পরে উইকেট পান টাইগার মাশরাফী। ফেরান কেমো পলকে। পরে আবারো উইকেট পান মাশরাফী। আউট করেন কেমার রোচকে।

মিরাজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার: স্যামুয়েলস ফিরে যাওয়ার পর বল হাতে জোড়া আঘাত হানেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেমরন হেটমায়ারকে ০ রানে লেগ বিফরের ফাঁদে ফেলে চলতি সিরিজে এই নিয়ে তাঁকে ষষ্ঠ বারের মতো সাজঘরে ফেরত পাঠান মিরাজ।

এর এক ওভার পর নিজের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে উইন্ডিজ দলপতি রভম্যান পাওয়েলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় করেন মিরাজ। মোট চার উইকেট নিয়ে উইন্ডিজদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ মেইডেন সহ ডানহাতি স্পিনার মিরাজের শিকার মোট ৪ উইকেট।এটাই তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার।

সাইফউদ্দিনের প্রথম: শাই হোপের সঙ্গে ৩৯ রানের জুটি গড়লেও পেস বোলার মোহাম্মাদ সাইফউদ্দিনের বলে ১৯ রানে বোল্ড হয়ে বিদায় নিতে হয় মারলন স্যামুয়েলসকে। স্যামুয়েলসকে ফেরানোর পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয় বাংলাদেশ।

এদিকে, ম্যাচে দুটি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের। ইমরুল কায়েসের বদলে এই ম্যাচে জায়গা পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। আর রুবেল হোসেনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন সাইফউদ্দিন। উইন্ডিজ দলে এসেছে পরিবর্তন। ওশান থমাসের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেন।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ: রোভম্যান পাওয়েল (অধিনায়ক), চন্দরপল হেমরাজ, শাই হোপ (উইকেটরক্ষক), ড্যারেন ব্রাভো, মারলন স্যামুয়েলস, শিমরন হেটমেয়ার, রোস্টন চেজ, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ, কেমো পল এবং ফ্যাবিয়ান অ্যালেন।

মাশরাফীর নতুন কীর্তি: ইতোমধ্যে এই ম্যাচে উইন্ডিজদের বিপক্ষে মাঠে নেমে দারুণ কীর্তি গড়লেন মাশরাফি। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৬৯টি ওয়ানডেতে দলের নেতৃত্ব দেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন।

এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত হাবিবুলের সমান ৬৯টি ওয়ানডেতে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইতোমধ্যে এবার উইন্ডিজদের বিপক্ষে মাঠে নেমে হাবিবুলের অধিনায়কত্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন মাশরাফি।