একাদশ জাতীয় সংসদের নব্য গঠিত মন্ত্রিপরিষদ শপথ নিয়েছে গতকাল। শপথ নেবার পরে আজই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তদের প্রথম কর্মদিবসে নিজেদের কর্ম পরিধি ও আসন্ন পরিকল্পনা অ প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেন সবাই।
নিজের মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তা মোকাবেলা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সদ্য দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।
তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ অঙ্গীকারের মধ্যে শিক্ষার মান উন্নত করা অন্যতম। তা অর্জনে আমরা কাজ করবো। এ ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তা মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলে শিক্ষামন্ত্রী। পাশে বসা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে সাথে নিয়ে দিপু মনি বলেন, আমরা চেষ্টা করবো প্রধানমন্ত্রী যে বিশ্বাস-আস্থা রেখেছেন তা রক্ষা করতে। শিক্ষার মান উন্নত করার চ্যালেঞ্জ সারা বিশ্বে আছে। সে চ্যালেঞ্জ অর্জনে আমরা কাজ করে যাবো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারকে জনগণ উজার করে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। তারা বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা আমাদের অঙ্গীকার পূরণের চেষ্টা করব।
এসময় উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতা না দায়িত্ব। সেই দায়িত্বশীল আচরণ আমরা সবাই করব। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাবো।
শেখ হাসিনার মতো সাহসী প্রধানমন্ত্রী থাকলে ভয়ের কিছু নেই : সচিবালয়ে দীপু মনি
বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার যে উন্নয়ন হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এছাড়া যেখানে শেখ হাসিনার মতো দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী প্রধানমন্ত্রী আছেন, সেখানে ভয়ের কিছু নেই বলেও জানান তিনি। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দীপু মনি।
নবনিযুক্ত এ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে যে উন্নয়ন হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন তা-ই করা হবে। এক্ষেত্রে আমার মন্ত্রণালয়ের সহকর্মী এবং গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা খুবই প্রয়োজন হবে। আজ আর বেশি কিছু বলব না। কাজ বুঝে নিতে আমাদের তিন থেকে চারদিন সময় দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালনে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। সবার সহযোগিতা নিয়ে সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এই সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করব।
যেখানে শেখ হাসিনার মতো দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী প্রধানমন্ত্রী আছেন, সেখানে ভয়ের কিছু নেই।’ এর আগে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে সঙ্গে নিয়ে দুপুড় সাড়ে ১২টায় নিজ দপ্তরে আসেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোহরাব হোসেন তাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান।
চাকর হয়ে কাজ করব : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে প্রয়োজনে জনগণের ‘চাকর’ হয়ে কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান।
আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।
মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক অনিয়ম রয়েছে। আমি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করব। প্রয়োজনে ‘‘চাকর’’ হয়ে কাজ করব।’
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট কমানোর জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কত বেতন পান প্রধানমন্ত্রীসহ বাকি মন্ত্রীরা?
বাংলাদেশে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও শেখ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মিলিয়ে ৪৭ সদস্য।
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্যরা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারি বেতন ভাতার বাইরে তারা কী অতিরিক্ত কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।
আসুন জেনে নেই বেতন-ভাতা ছাড়া বাংলাদেশের মন্ত্রীরা কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান।
প্রধানমন্ত্রীর বেতন-ভাতা
দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশেন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেতন মাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া তিনি মাসিক বাড়ি ভাড়া পান এক লাখ টাকা, দৈনিক ভাতা পান তিন হাজার টাকা।
মন্ত্রীর বেতন-ভাতা
দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬ অনুযায়ী, একজন মন্ত্রী বেতন পান মাসিক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং চিফ হুইপরাও সমান বেতন পান।
