‘এনজি শট’ মানে ‘নট গুড শট’। অভিনয়শিল্পীরা শুটিংয়ের সময় প্রায়ই এ ঘটনার মুখোমুখি হন। সেই অভিজ্ঞতা কখনো বিরক্তির, কখনো মজার। সাধারণত অভিনেতাদের ভুলেই শট এনজি হয়। যদিও বড় তারকাদের ক্ষেত্রে এনজি শট খুব কমই হয়। কারণ আমরা সকলেই জানি জনপ্রিয় তারকারা কখনো এক শট দুইবার নেন না। তবে সত্যিটাও মানতে হবে যে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আর তাই তো ছোট পর্দার শীর্ষস্থানীয় অনেক তারকাই এনজি শটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। আজ থাকছে তাদের কথা….
১, মোশাররফ করিম:
বিষয়টি অনেকেই জানেন যে, স্ক্রিপ্ট একবার দেখেই অভিনয় করেন মোশররফ করিম। কোনো প্রকার নির্দেশনা ছাড়াই নিজের মতো করে সাজিয়ে নেন চরিত্র। অথচ এ তারকাও নাকি এনজি শটের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
মোশাররফ করিম জানান, প্রথম নাটকেই ঘটেছিল ঘটনাটা। নাটকের নায়ক তৌকির আহমেদ ভাই। আমি খুবই ছোট একটি চরিত্রে কাজ করছিলাম। সেদিন আবার পরিচালক সেটে আসেনি। সহকারী পরিচালক সবকিছু দেখাশুনা করছেন। একটা দৃশ্যে ক্যামেরার সামনে আমি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে অভিনয় করলাম। সহকারী পরিচালক বললেন, ‘হয়নি—এটা এনজি শট।’ তিনি যেটা বললেন অতি অভিনয় করতে। আমার মনে হচ্ছিল, নাটকে আমার যে চরিত্র, সেখানে অতি অভিনয়ের দরকার নেই।
এরপর প্রতিবারই আমি স্বাভাবিক অভিনয় করছিলাম, কিন্তু সহকারী পরিচালক বলছেন, ‘হচ্ছে না, হয়নি-এনজি শট।’ এর মধ্যে তৌকির ভাই আসলেন। সে শুনে বললো কই শটগুলো দেখি আমি। তিনি এবং আমি একই নাট্যদল—নাট্যকেন্দ্রে কাজ করি। তাই আমার অভিনয় সম্পর্কে তার ধারণা ছিল। তৌকীর ভাই ক্যামেরার মনিটরে আমার শটগুলো দেখলেন। সে বললেন ‘ঠিকই তো আছে’। তখন সবাই চুপ। ওই থেকে দৃশ্য ব্যবহারও হয়েছিল।
২. মেহজাবিন:
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের তালিকা করা হলে শীর্ষেই থাকবেন মেহজাবিন চৌধুরী। বিগত কয়েকবছর ধরে অনবদ্য অভিনয় আর হিট নাটক উপহার দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এ অভিনেত্রী। জনপ্রিয় এ অভিনেত্রীও নাকি এনজি শটের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
মেহজাবিন জানান, আমার হাসির দোষ আছে। এজন্য অনেক শট এনজি হয়েছে। আর এটা অনেকেই জানে বলে আমার শট ইচ্ছে করে এনজি করে দেয়। সকাল আহমেদ ভাইয়ের ‘আই লাভ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড’ নাটকের শুটিং চলছিলো উত্তরাতে। জোভান আর তৌসিফ দাড়িয়ে কথা বলবে আর আমি ঢুকবো শর্টে। পাশ থেকে সকাল ভাই বললেন নায়িকা আর কি দরকার নাটকে। ওদের দুজনেরই বেশ মানিয়েছে। অমনি হয়ে গেল এনজি। আমার সঙ্গে ইউনিটের সবাই হেসে দিল।
৩. অপি করিম:
এ অভিনেত্রী জানান, একবার শ্রদ্ধেয় গোলাম মুস্তাফার সঙ্গে একটি নাটকে অভিনয় করছিলাম। একটি দৃশ্যে ওনাকে বলবো,‘নাশতা খাও’। এ বাক্যটি বলতেই অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। ভাবলাম, আমি যে তাকে সংলাপটি বলব; তিনি যদি আমার উচ্চারণে কোনো ভুল খুঁজে পান। যদি ধমক দেন। সেই কারণে আমি ‘নাশতা’ শব্দটিই তুলে দিলাম। বললাম ‘এই নাও, খাও’। কিন্তু সেদিন শটটা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।
একবার নাহিদ আহমেদ পিয়ালের ‘প্রভাষক থেকে প্রফেসর’ নাটকের শুটিং করছিলাম। পরিচালক বললেন, পাঁচ মিনিটের মধ্যে এই দৃশ্যটি শেষ করে আমরা ইফতার করব। দৃশ্যটি ছিল এমন, আমি প্রথম সিঁড়ি বেয়ে উঠব, একটি সিঁড়ির ওপর দাঁড়াব, লাইট নেব। তারপর সংলাপটি বলব। ওই সময় শটটি আমি পাঁচবারেও দিতে পারছিলাম না। সবাই অবাক আমার এমন কাণ্ডে!! আমি নিজেও নিজের উপর বিরক্ত। পরে ইফতারির পর ওকে হয়েছে। অনেক সময় আবার দেখা যায় কেউ কেউ হুট করে সালাম দিয়ে বসেন। কিন্তু দূরে ক্যামেরা আছে যে সেটি খেয়াল করেননা। অর এ কারণেও মাঝে মাঝে শট এনজি হয়ে যায়।
৪. বুবলী:
ঘটনাটি ঘটেছিল শামীম আহমেদ রনীর ‘বসগিরি’ ছবির সেটে। শুটিং হচ্ছিল এফডিসির মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনের চত্বরে। দৃশ্যটি ছিল এমন—হিরোইন মেজাজ খারাপ করে একটা গাড়িতে করে নেমে আসবেন। তার এক হাতে পিস্তল ও আরেক হাতে ড্রাইভ করে দ্রুত আসবেন। গাড়ি থামিয়ে দরজা খুলে বের হবেন তিনি। শুটিং ইউনিট তো রেডি। ক্যামেরাও চলছে। এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে আসছি। প্রচণ্ড রাগ করে দরজা খুলতে হবে। কিন্তু দেখা গেল দরজা আর খুলছে না। কতক্ষণ পর ডিরেক্টর কাট বলতে বাধ্য হলেন। দ্বিতীয়বারও একই দশা। তৃতীয়বার দরজা খুলে হাতে আর পিস্তল নিতে মনে নেই। তৃতীয় শটও হলো এনজি। চতুর্থবার শটটি ওকে হলো। পুরোনো ধরনের স্পোর্টস গাড়ি হওয়ার কারণে দরজা বারবার আটকে যাচ্ছিল। প্রথম ছবিতেই এভাবে সবাইকে বিরক্ত করছিলাম এনজি শট দিয়ে।
৫. সারিকা :
বিজ্ঞাপনের শুটিং। কলকাতায় শুটিং হচ্ছিল। সহশিল্পী ছিলেন ইমন। আর ইমনের কারণেই সেদিন শুটিংয়ে বারবার এনজি শট হয়েছিল। দৃশ্যটা ছিল এমন—আমি দৌড় দেব, পেছনে পেছনে দৌড়ে ইমন আমাকে ধরবে। যতবারই টেক নেওয়া হয়, দৃশ্যটি এনজি হয়ে যায়। কারণটা কী? পরে পরিচালক বললেন, দৌড়ানোর সময় হয় আমার থেকে ইমনের দূরত্ব মিলছিল না এবং ইমনের দৌড়ানোর ভঙ্গিটা মানানসই হচ্ছিল না। একটা ব্যাপার, বিজ্ঞাপনের প্রতিটি শটই সূক্ষ হতে হয়। কারণ একটা শর্টের জন্য অনেক অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকে। কিন্তু সেদিন আমাদের দুজনের ঠিক হচ্ছিল না। একটা পর্যায়ে কলকাতার বিজ্ঞাপন নির্মাতা সৌনক মিত্র বলেই ফেললেন, ‘ইমন, আগে জানলে তোমাকে দিয়ে দৌড়ের প্রাকটিস করাতাম।’ যতটুকু মনে পড়ে, প্রায় ১৫-২০ বার চেষ্টার পরে দৃশ্যটি ওকে হয়েছিল।
