সিরিজ জয়ের সুযোগ থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র তিন রানে হেরে গিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৬ বলে ৮ রান দরকার ছিল তাদের। হাতে পাঁচ উইকেট থাকা সত্ত্বেও জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি টাইগাররা।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বুকভরা কষ্ট চেপে ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেন, “মাঠে শিশির তো অবশ্যই ছিল সঙ্গে কিছুটা বল টার্নও করছিল। কিন্তু শেষ ওভারে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি যেকারণে হারতে হয়েছে আমাদের। তারা সত্যি অনেক ভালো খেলেছে, কিন্তু আমাদের ফিনিশিংয়ে দক্ষতার অভাব ছিল।”
তিনি বলেন, “এই ধরনের ম্যাচ পরাজয় অবশ্যই হতাশার। ১৩ বলে ১৪ রান, হাতে আছে ৬ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে থেকে ম্যাচ কেউ কি করে হারে! সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হল এমনভাবে জয়ের কাছে এসেও বাংলাদেশ এই প্রথম এমন কোনও ম্যাচ হারল তাও কিন্তু নয়। এমন ঘটনা প্রায়ই হচ্ছে। এটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার বিষয়। বারবার কেন এমন হবে? একই ভুল এতবার কেন হবে? যেভাবে আমরা এই ম্যাচে জয়ের কাছে যাচ্ছিলাম। তাতে ম্যাচটা সহজেই আমাদের জেতা উচিত ছিল। কিন্তু জিততে পারলাম না। শেষে এসে হেরে গেলাম। হেরে যাচ্ছি।”
টাইগার অধিনায়ক আরো বলেন, “সিনিয়ররা যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে তাতে আমি ভেবেছিলাম ম্যাচটা আমরা খুব সহজেই ফিনিশ করতে পারব। কিন্তু তা আর হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নার্ভটা আরও সহজ রাখা যেত। এক-দুই করে রান নেয়ার প্রবণতা থাকলেই খেলাটা শেষ করে আসা যেত।”
নিজেদের ফিল্ডিংকে দায়ী করে মাশরাফি বলেন, “বেশ কয়েকটি ক্যাচ ড্রপ হয়েছে। আমরা ২৪টি ডাবল দিয়েছি; যা অপ্রত্যাশিত। ব্যাটিংয়ে সিঙ্গেল না নিতে পারাই ভুগিয়েছে আমাদের। এখনও একটি ম্যাচ হাতে আছে, আশা করছি পরের ম্যাচ আমরা ঘুরে দাঁড়াবো। ”
পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে রিয়াদের আউটকেই দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, “খেলা শেষ বল পর্যন্তই ছিল। তারপরও রিয়াদ ওই সময় রান আউট না হলে হয়ত খেলা সহজ হয়ে যেত। আরও আগেই শেষ করা যেত।”
তীরে এসে তরী ডুবানোর বাজে স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ দলের। একই ভুল বার বার করে চলেছে টাইগাররা। বিগত ৪-৫ বছরে বেশ কয়েকবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকার পরও শেষ পর্যন্ত হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজের দলটিকে।
২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনাল, ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনাল, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে মুহূর্তে হেরে গিয়েছিল টাইগাররা। এরপর চলতি বছর নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে এসেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তারা। আর বুধবার উইন্ডিজদের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা গেল একই চিত্র। তাই সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠে আসছে বাংলাদেশ দলের ফিনিশিং দক্ষতা নিয়ে।
