ইয়াবার দাম বেড়ে দিগুন, ঔষধের দোকানে মাদকসেবীরা

সমাজ থেকে মাদক নিমূলের লক্ষে সারাদেশে মাদকের বিরুদ্দে অভিযান চলছে সরকারের পদক্ষেপে ।এতে সারাদেশের প্রধান ইয়াবাব্যাবসায়ীদের চিহুত করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে ।অভিযানের সময় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের বন্দুক যুদ্দ হয়ে থাকে এতে মারা যাচ্ছে অপরাধীরা ।এ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ।

আর এই অভিযানের ফলে এখন নিজেদের বাঁচাতে মাদকসেবী ও মাদব ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দেয়ায় রংপুর অঞ্চলের মাদকসেবীরা ছুটছে ফার্মেসিগুলোতে।
একদিকে অভিযানের ফলে সবধরণের মাদকের দাম বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মাদকের মরণ নেশা থেকে নিজেদের বিরত করতে না পারা মাদকসেবীরা তাই ছুটছে ফার্মেসীগুলোতে কম দামে নেশা জাতীয় ওষুধ কিনতে। কম মূল্যে ও সহজে তারা পাচ্ছে নেশা জাতীয় দ্রব্য। অনেক মাদকসেবী নিরাপদ ও ঝুঁকি মুক্ত মনে করে প্রকাশ্যে ভিড় জমাচ্ছে ফার্মেসিগুলোতে।

একাধিক মাদকসেবী বলেন, আগের মতো সহজে মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিকল্প মাদকের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

তারা বলেন, একটি ইয়াবা ট্যাবলেট তিনশ’ থেকে তিনশ’ পঞ্চাশ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতো এখন এর দাম হাকানো হচ্ছে সাতশ’ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত। এক পুরিয়া গাঁজার দাম অভিযানের আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে একশ’ থেকে ১২০ টাকা। ফেন্সিডিল হাজার থেকে ১২শ’ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের কারণে এসব মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করতে নিরাপদ মনে করছে না মাদক সেবী ও বিক্রেতারা। তাই অধিকাংশ মাদকসেবী বিকল্প নেশার দিকে ঝুঁকছেন। এ সুযোগে এক শ্রেণির ফার্মেসির মালিক কোনো ঝুঁকি ছাড়াই মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসিগুলোতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ওষুধ। চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ফার্মেসি থেকে কেনা যাচ্ছে প্যাথেড্রিন থেকে শুরু করে এ জাতীয় আরও অনেক ওষুধ।

টাপেন্টা, পেন্টাডল, মাইলাম, লাইজন, সেডিল, এক্সিউনিল, ক্লোসান, মিলাম ও ডর্মিকামের মতো উচ্চমাত্রার ঘুমের ওষুধ চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কিন্তু অতি মুনাফার আশায় ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদেরও ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন কোন ফার্মেসির মালিকের কাছে এসব ওষুধ বিক্রি করা নিষেধ। কিন্তু বিক্রয় প্রতিনিধিরা সরকারের নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নাম সর্বস্ব ফার্মেসিগুলোতে বিক্রি করছে।

মাদকসেবীরা ফার্মেসি থেকে মাদকদ্রব্য তৈরির প্রধান উপকরণ হিসেবে কফ কাঁশের জন্য ব্যবহূত সিরাপ সংগ্রহ করেন। এতে কিছু কিছু কোম্পানির সিরাপে অ্যালকোহলের পরিমান বেশি থাকে। বাজারে কাঁশের ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত সিরাপের পর্যাপ্ত চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব সিরাপ ফার্মেসির মালিকেরা প্যাকেটের গায়ে লেখা মূল্যের দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে আসছে। মাদকসেবীরা ঘুমের ওষুধের সঙ্গে কাঁশের সিরাপসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করছে এক ধরনের মাদক। যার নাম দেয়া হয়েছে ঝাক্কি বা মিক্সার।

মাদকসেবীদের দেয়া তথ্য মতে, একজন মাদকবেসী ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে চাহিদা মত মাদকদ্রব্যের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারেন। সংগৃহিত মাদক উপকরণ প্রক্রিয়াজাত করে দুই থেকে তিনজন সেবন করতে পারে। এতে একজন মাদকসেবীর জন্য যথেষ্ট বলে মাদকসেবীরা জানায়।

তবে খুব সহজেই প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে ওষুধ ব্যবসার আড়ালে বিক্রি করছে মাদকের উপকরণ ঘুমের ওষুধ ও কাঁশের সিরাপ। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য ওষুধের পাশাপাশি বেশি করে ঘুমের ওষুধ ও কাঁশের সিরাপ রাখছেন ফার্মেসি মালিকরা।

প্রসঙ্গত,বর্তমানে মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে নিজেদের জীবন বাঁচাতে এখন অনেক ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। আবার অনেকে এখন নিজেদের পেশাও পাল্টাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে অনেক মাদকব্যবসায়ী আবার নারীদের দিয়ে মাদকব্যবসা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে ।তবে অনেকটাই মােদকের ব্যবসা কমে গেছে ।মাদকসেবীরা ভয়ে মাদক ছাড়তে শরু করেছে ।এটি সরকারের সফল পদক্ষেপ দেশে মাদকসেবীদের সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে।