ভারতীয় বাংলা ও বলিউডের ছবিতে সমানতালে কাজ করছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। কয়েক বছর আগে ‘চোরাবালি’ দিয়ে ঢাকাই ছবিতে অভিষেক হয়েছিল তার। সবশেষ তাকে দেখা গেছে ‘সম্রাট’ ছবিতে। মাঝে বেশ কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে ফের তিনি ফিরছেন ঢাকাই ছবিতে। নতুন এই ছবির নাম ‘নন্দিনী’।
আজ রবিবার সকালে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন ছবিটির নির্মাতা সোয়াইবুর রহমান রাসেল।
বাংলাদেশি লেখক পরিতোষ বাড়ৈর ‘নরক নন্দিনী’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘নন্দিনী’ ছবিটি। এর গল্প ও সংলাপ লিখেছেন লেখক নিজেই। আর চিত্রনাট্য লিখেছেন তামজীদ রহমান। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
আলাপকালে ছবির নির্মাতা জানিয়েছেন, এটি প্রযোজনা করছে নয়নতারা লিমিটেড। তিনি আরও জানান, ‘নন্দিনী’ তার নির্মিত প্রথম ছবি।
পাঁচ বছরের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে রাসেল নাটক ও স্বলদৈর্ঘ্য নির্মাণ করে হাত পাকিয়েছেন। প্রথমবারের মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে তার মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
রাসেল নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় নিয়ে জানতে চাওয়া হয় নায়ক ইন্দ্রনীলের কাছে। শুরুতে তাকে প্রশ্ন করে বলা হয়, ‘অনেক চলচ্চিত্রেই তো অভিনয়ের প্রস্তাব পান। কিন্তু সেখান থেকে যে চিত্রনাট্যটা আপনার কাছে পারফেক্ট মনে হয়, সেটাতেই অভিনয় করার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। ‘নন্দিনী’ ছবিটিতে অভিনয় করার জন্য আগ্রহী হলেন কেন?’
‘নন্দিনী’ গল্পের চিত্রনাট্য ও বাকি সবই আমার পছন্দ হয়েছে। এমন চরিত্রে আমি এর আগে কখনই অভিনয় করিনি। এ ছাড়া সমাজের এমন নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পর্কের পটভূমিতে নির্মিত সিনেমায় আমি আগে কাজ করিনি। সেই সঙ্গে এটি একটি ভিন্ন রকমের ভালোবাসার গল্প। এটি আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। আমি এমন ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে পছন্দ করি যা আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই হয়।’ উত্তরে বলেন ইন্দ্রনীল।
যখন তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল তখন তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।
পরে ইন্দ্রনীলের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনি এর আগেও বেশ কটি ঢাকাই ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেদিক থেকে এ ছবিটিকে আলাদা করবেন কীভাবে?’ এই নায়ক বলেন, ‘এটি একটি ভিন্নধর্মী সিনেমা, অন্যরকম গল্প, ভিন্ন ধারা, ভিন্ন নির্মাতা। এসব কিছুই আমাকে অন্যসব সিনেমা থেকে অবশ্যই অন্যরকম অভিজ্ঞতা পেতে সাহায্য করবে। হতে পারে এটি একই শহরের গল্প। কিন্তু শহরে বিভিন্ন রকমের মানুষ ও মানুষের গল্প রয়েছে যা বলা যেতে পারে। তাই এখন আমি খুবই ভিন্ন রকম একটি গল্পের অংশ, যা আমি আগে কখনো করিনি। তবে আমি মনে করি না অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম কিছু করতে আমার কোনো সমস্যা হবে।’
‘আমি সবসময় তাদের সঙ্গেই কাজ করেছি যাদের প্রতি আমার আস্থা রয়েছে। বেশীরভাগ সময় আমি পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিত্রনাট্যের উপর দৃঢ় থেকেছি যদি সেটি কোনো উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়, তবুও। আর তাই আমাকে সম্পূর্ণভাবে রাসেলের হাতে তুলে দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ সিনেমায় আমাকে সে-ই গাইড করবে।
অবশ্যই যদি আমি মনে করি, তাহলে আমি আমার সিদ্ধান্ত ও সাজেশন দেবো। কিন্তু এখানে আমার একমাত্র কাজ হচ্ছে আমার চরিত্রের প্রতি ফোকাস করা যেমন করে রাসেল চিন্তা করেছে। আমি আমার সাধ্যমতো বেস্ট কাজটিই দিতে চাই এখানে। ‘নন্দিনী’ চলচ্চিত্রের চরিত্রটির জন্য নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করেছেন?’’ উত্তরে বলেন ঢাকায় জনপ্রিয় হতে থাকা ইন্দ্রনীল।
গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছবিটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন নির্মাতা ও লেখক পরিতোষ বাড়ৈ মিলে। অবশেষে চলতি বছরের মে মাসের দিকে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত।
কথা প্রসঙ্গে নির্মাতা জানিয়েছেন, ছবিটিতে ইন্দ্রনীলের বিপরীতে অভিনয় করবেন ছোট পর্দার সুপরিচিত একজন অভিনেত্রী। আর এ ছবির মধ্য দিয়েই চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটবে। সেটা কয়েকদিনের মধ্যেই জানা যাবে।
নির্মাতা রাসেল জানান, ছবিটিতে পলাশ চরিত্রে অভিনয় করবেন ইন্দ্রনীল। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক গুণী অভিনেতা আছেন, কিন্তু উপন্যাসটা পড়ার পর আমি দেশে কাউকে পাইনি যাকে চরিত্রটিতে মানাবে। তখন অনেক ভাবনা-চিন্তার পর মাথায় আসল আমরা চরিত্রটির জন্য ইন্দ্রনীলকে নিতে পারি। আমার কাছে ওর চোখ, তাকানো, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে মনে হয়েছে, ওর সঙ্গে যায় বিষয়টা। আমি দ্বিতীয় কোনো অপশন পাইনি। তারপর তার সঙ্গে কথা বলি। উপন্যাসটা তাকে পাঠাই। তিনি পড়ার পর জানালেন, কাজটি তিনি করতে চান। এরপর তার সঙ্গে কথা বলে ঠিকঠাক করলাম।’
‘আমি একটা ছবি বানাতে চাই। খুব বেশি আহামরি কিছু করব না। গল্পটা যাতে ঠিকঠাক মতো বলতে পারি, সে দিকটাতে আমার বেশি জোর থাকবে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক কোটি টাকা দিয়ে সিনেমা নির্মাণ করলে টাকাটা আসলে উঠে আসা খুবই কঠিন। আর প্রযোজককে তো বাঁচাতে হবে। তাই মাঝামাঝি একটা বাজেটে কাজটা করছি।’ যোগ করেন রাসেল।
একটা মেয়ের সংগ্রামী জীবনের গল্প দেখা যাবে ‘নন্দিনী’ ছবিতে, যার জীবনের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে গল্প। নির্মাতার ভাষায়, ‘ছবিটির মধ্য দিয়ে আমরা সমাজের মানুষের কাছে একটা মেসেজ দিতে চাই।’
নির্মাতার কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘চরিত্রটি ধারণের জন্য আপনার দিক থেকে ইন্দ্রনীলের প্রতি পরামর্শগুলো কেমন ছিল?’
জবাবে রাসেল বলেন, ‘তার গেটআপ, কথা বলার স্টাইল কিংবা ডায়েট-সবকিছুতেই একটা গাইডলাইন ছিল। আমরা যেমনটা চাই, সে রূপে আসতে কিছুটা সময় লাগবে, তাও জানি। এ ছাড়া তার কিছু প্রজেক্টও রানিং ছিল। এটাও একটা বিষয়।’
‘নন্দিনী’ ছবির পুরো অংশের শুটিং হবে বাংলাদেশে। নির্মাতা ছবিটি মুক্তি দিতে চান পরের বছরের রোজা কিংবা কোরবানির ঈদে। না হয় তার মাঝামাঝি কোনো সময়ে। সে কথাও জানা গেছে ছবিটির নির্মাণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
‘বাংলাদেশের ফিল্মে তো এখন এক ধরনের সংকটকাল চলছে। কী মনে হয় এ প্রজেক্টটি নতুন কোনো মাত্রা যোগ করবে ইন্ডাস্ট্রিতে?’ রাসেল বলেন, ‘আমার আত্মবিশ্বাস হলো, আমার কনটেন্ট অনেক ভালো। আমি যদি ঠিকঠাক মতো গল্পটা বলতে পারি, অ্যাট লিস্ট প্রযোজকের টাকাটা ফেরত দিতে পারব। এটা নিয়ে সন্দেহ নেই। দেখা যাক।’
‘নন্দিনী’ ছবিটিতে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ছাড়াও নাজিরা মৌ, ফজলুর রহমান বাবু, ইরেশ জাকের, মুনিরা ইউসুফ মেমী, জয়শ্রী কর জয়া, ইলোরা গহরসহ আরও অনেকেরই অভিনয়ের কথা রয়েছে।
